বাংলাদেশে আর কোনো আলেম সমাজকে যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার, আল-বদর বা আল-সামস বলে আখ্যা দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর আক্তারুজ্জামান রঞ্জন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টায় কিশোরগঞ্জের ভৈরব এমপি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আতাউল্লাহ আমিনের নির্বাচনি পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মেজর আক্তারুজ্জামান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে, কোনো আলেম সমাজের বিরুদ্ধে নয়। তিনি বলেন, “আমরা পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। তারা নামাজ পড়িয়েছে বলেই কি তারা আলেম হয়ে যায়? এই ধরনের বিভ্রান্তিকর বয়ান বন্ধ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি দৃঢ়ভাবে বলতে চান—বাংলাদেশের কোনো আলেমদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ করা হয়নি।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান আলেম সমাজের অনেকেরই বয়স তখন রাজাকার হওয়ার মতো ছিল না। তবুও তাদের বিরুদ্ধে অহেতুক অপবাদ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মেজর আক্তারুজ্জামান আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে হবে। অপরাধ করলে বিচারের জন্য আইন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে অপরাধ করে, কেউ আবার পরিস্থিতির চাপে। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, বিচারের নামে একটি গোষ্ঠী বাণিজ্যে লিপ্ত হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করানো হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে আগামী ১২ তারিখ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে যেন পুলিশ না যায়—এমন আহ্বান জানান তিনি। তারা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে আসতে পারে এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, “যদি অপরাধ করেই থাকে, এতদিনে বিচার করা হয়নি। দেড় বছর পার হয়ে গেছে। এই সাত দিন অন্তত যেন কোনো ধরনের বাণিজ্য বা হয়রানি না করা হয়।”