কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিএনপির নিজস্ব কোনো প্রার্থী না থাকায় গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা আপিল বিভাগ কর্তৃক চূড়ান্তভাবে বাতিল হওয়ায় কেন্দ্রীয়ভাবে এই জোটগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর ফলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে দেবিদ্বার আসনে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের সমন্বিত প্রার্থী হিসেবে ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জসিম উদ্দিন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এএফএম তারেক মুন্সী। তিনি বলেন, যেহেতু কুমিল্লা-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই, তাই দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিনকে সমর্থন দিতে বলা হয়েছে। তিনি দেবিদ্বারবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাই যেন ট্রাক প্রতীকের পক্ষে কাজ করেন।
এ বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ জানান, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর করা লিভ টু আপিল আপিল বিভাগে খারিজ হয়ে যাওয়ায় কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির আর কোনো প্রার্থী থাকছে না। ফলে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিনই এখন বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে জসিম উদ্দিনকে সমর্থন দিয়েছে এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের তার পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছে। একই তথ্য নিশ্চিত করে বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের এক শীর্ষ নেতা বলেন, কুমিল্লা-৪ আসনে ট্রাক প্রতীককে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন, মঞ্জুরুল আহসান ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
গত ১৭ জানুয়ারি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন হাসনাত আবদুল্লাহর আপিল মঞ্জুর করে মঞ্জুরুল আহসানের মনোনয়নপত্র বাতিল করে।
এরপর ইসির সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মঞ্জুরুল আহসান হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। শুনানি শেষে ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট রিটটি সরাসরি খারিজ করেন। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে তিনি আপিল বিভাগে আবেদন করেন। ২৬ জানুয়ারি আপিল বিভাগ শুনানি ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি রাখে। পরে হাইকোর্টের আদেশের প্রত্যায়িত অনুলিপি হাতে পেয়ে তিনি নিয়মিত লিভ টু আপিল করেন।
৩০ জানুয়ারি লিভ টু আপিলের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ ১ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) আদেশের জন্য দিন নির্ধারণ করেন।