ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চান এবং দেশে রাজনৈতিক অবসরের একটি সংস্কৃতি চালু করতে আগ্রহী।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোয়ালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, “গত ১৫ বছরে আপনাদের ভাগ্য পরিবর্তন বা উন্নয়নের কোনো সুযোগ পাইনি। কারণ এই সময়জুড়ে আমরা নির্যাতন, নিপীড়ন ও দমন-পীড়নের মধ্যে ছিলাম।
ঠাকুরগাঁওয়ে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির বহু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে। সবাই অনেক কষ্ট করেছে। আল্লাহর কাছে লাখো শুকরিয়া—শেষ পর্যন্ত আমরা এসব মামলা থেকে খালাস পেয়েছি।”
তিনি বলেন, “দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল হিসেবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অতীতে নির্বাচন করতে দেওয়া হয়নি—ভোটের আগেই ভয়ভীতি দেখানো হতো।
এবার জনগণের সামনে সুযোগ এসেছে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংসদ ও সরকার গঠনের। সে জন্য আমি সবাইকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাই।”
নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “ঠাকুরগাঁও পৌরসভায় বিএনপির একটি শক্ত ইতিহাস রয়েছে। সংসদ নির্বাচনে আমি ব্যক্তিগতভাবে হারলেও পৌরসভায় বিএনপি কখনো হারেনি।
এবার সম্ভবত আমার শেষ নির্বাচন। বয়স হয়েছে, আর বর্তমান মানসিক অবস্থায় রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়াই আমার জন্য ভালো মনে হচ্ছে। আমাদের দেশে রাজনৈতিক অবসরের কোনো সংস্কৃতি নেই—আমি সেই শুরুটা করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে সাধারণ মানুষের কল্যাণে নানা উদ্যোগের কথা বলেছেন। “মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সুযোগ দেওয়া হবে।
চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে এই কার্ড সুবিধা দেবে। কৃষকদের জন্যও আলাদা কার্ড দেওয়া হবে, যাতে তারা সার, বীজসহ কৃষি উপকরণ ন্যায্য দামে কিনতে পারেন,”—বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে শিশুদের জন্য উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, হাসপাতালগুলোতে মানসম্মত চিকিৎসা এবং সাশ্রয়ী মূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, “নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁওয়ে একটি বিমানবন্দর ও একটি মেডিকেল কলেজ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে বেকারত্ব দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
এছাড়া নারীদের ঘরে বসে আয় করার জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং যুব সমাজকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে নানা উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।