ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন, ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে ইসলাম অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালিত হওয়া স্বাভাবিক। তবে ইসলামের কথা বললেই একটি গোষ্ঠী ভয়ভীতি ছড়ায়।
তিনি বলেন, “দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা ইসলামী শাসনে তাদের অপকর্ম চালাতে পারবে না বলেই ইসলামভিত্তিক শাসনব্যবস্থাকে ভয় দেখানো হয়। অথচ ইসলামী শাসনের অধীনে মানুষ প্রকৃত শান্তিতে ছিল। বাংলাদেশেও চরমোনাই অঞ্চলে অমুসলিমরা মায়ের কোলের মতো নিরাপদে আছে—তারাই এর সাক্ষ্য দিচ্ছে।”
দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “৫৪ বছরের ব্যর্থতার গ্লানি থেকে মুক্তি পেতে হলে হাতাপাখা প্রতীকে ভোট দিতে হবে। ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত মুক্তি পাবে।”
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় রাজধানীর কাওরান বাজার ওয়াসা ভবনসংলগ্ন সড়কে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পীর সাহেব চরমোনাই আরও বলেন, “লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবন ও রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। চব্বিশের জুলাইয়েও ছাত্র ও তরুণরা রাজপথে জীবন দিয়েছে সমৃদ্ধি অর্জন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু স্বাধীনতার পর সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি; বরং দেশ বারবার দুর্নীতিতে শীর্ষে উঠেছে। হত্যা, খুন ও গুমে দেশ সয়লাব হয়েছে। জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “জুলাই আমাদের সামনে যে সুযোগ এনে দিয়েছে, তা কাজে লাগাতে না পারলে ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না। আর ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হলে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ইসলামই একমাত্র কার্যকর পথ—ইতিহাসের পরতে পরতে তা প্রমাণিত।”
নির্বাচনী জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি এবং ঢাকা–১১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ।
নগর উত্তর সেক্রেটারি মাওলানা মুহাম্মাদ আরিফুল ইসলাম–এর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, মুফতি রেজাউল করীম আবরার, শ্রমিক নেতা আলহাজ্ব কামাল উদ্দীন, ছাত্রনেতা ইমরান হোসাইন নুরসহ বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীরা ও দলীয় নেতৃবৃন্দ।