শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম হত্যা মামলার ৫৫ নম্বর আসামি হিসেবে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করেছে মাহমুদুল হাসান রুবেলকে। সোমবার রাতে ঝিনাইগাতী উপজেলার বনগাঁও এলাকার একটি বিল থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত রুবেল ঝিনাইগাতী উপজেলার বনকালী এলাকার বাসিন্দা গেসু মিয়ার ছেলে এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নালিতাবাড়ী সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আফসান-আল-আলমের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ঝিনাইগাতীর বনগাঁও এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। দীর্ঘ তল্লাশির পর একটি বিলের ভেতর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় রুবেলকে গ্রেফতার করা হয়। শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃত আসামিকে মঙ্গলবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
এদিকে এই গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে শেরপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সংগঠনের আহ্বায়ক মো. মামুন অর রশিদ মামুন এবং সদস্যসচিব মো. নিয়ামুল হাসান আনন্দ এক যৌথ বিবৃতিতে দাবি করেন, আসন্ন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই এই ধরনের ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা জামায়াতের দায়ের করা হত্যা মামলাটিকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে মাহমুদুল হাসান রুবেলের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জানুয়ারি ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়ামে শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম। পরে তাকে ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর ৩০ জানুয়ারি নিহত রেজাউল করিমের স্ত্রী মারজিয়া বাদী হয়ে ঝিনাইগাতী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলকে প্রধান আসামি করে ২৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাত আরও চারশ থেকে পাঁচশ জনকে আসামি করা হয়।
এই হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী গ্রেফতারকে ঘিরে শেরপুর জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও গভীর করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।