ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা টাকা নিয়ে ভোট চাইতে আসবে, তাদের ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জাতিকে বিভক্ত করে কাউকে আর পেছনে টেনে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা মাঠে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমির আলাউদ্দিন শিকদারের সভাপতিত্বে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের প্রতিটি প্রান্তে জনগণের মধ্যে নতুন করে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে—তারা আর ধান্দাবাজ ও আধিপত্যবাদী শক্তির দাসত্ব মেনে নেবে না।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর ৫৪ বছরে সরকার পরিবর্তন হয়েছে বারবার, কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্যের মৌলিক কোনো পরিবর্তন হয়নি। এর জন্য তিনি ভুল নীতি ও অনৈতিক নেতৃত্বকে দায়ী করেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিছু রাজনৈতিক দলের ভণ্ডামির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ভোটের সময় অনেকেই টুপি, তসবিহ ও ধর্মীয় ভান নিয়ে মানুষের দরজায় দরজায় ঘোরে।
কিন্তু বাস্তবে তারা টাকার বস্তা নিয়ে ভোট কিনতে নামে এবং মানুষের বিবেক ও মর্যাদা বিক্রির চেষ্টা করে। এ ধরনের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি অবৈধ অর্থ নিয়ে ভোট চাইতে আসে, তাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করতে হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, কেউ যেন নিজ হাতে আইন তুলে না নেয়।
যুবসমাজের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, তরুণ প্রজন্ম ভিক্ষা বা বেকার ভাতা নয়, মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান চায়। জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে তাদের দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে তিনি বলেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে বাংলাদেশকে ফুলের বাগানের মতো সাজানো হবে। ধর্ম ও বর্ণের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন থাকবে না, সবাই নিজ যোগ্যতায় মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করবে।
নারী ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মায়েরা জাতির ভিত্তি। তাদের শিক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একজন মা শিক্ষিত হলে পরিবার, সমাজ এবং পুরো জাতি আলোকিত হয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।