মেহেদী হাসান মেহের বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি
মাওলাগঞ্জ বাজার মাঠে নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করে ইসলামী আন্দোলন। জনসভা মঞ্চে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৬ আসনে হাতপাখার প্রার্থী সাইদুউদ্দিন খাঁন জাবেদের হাতে প্রতীক তুলে দেন দলটির আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন দেশ এবং জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমি বিশ্বাস করি, এবারের নির্বাচনে দেশের জনগণ দুর্নীতিবাজ এবং ইসলামের লেবাসধারীদেরকে বয়কট করবে। তিনি বলেন, কিছু সোনা যেমন দেখতে আসল মনে হলেও ভেতরে ইমিটেশন থাকে, তেমনি কিছু লোক ইসলামের লেবাস পরে ভিন্ন অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে হাতপাখার প্রার্থী সাইদুউদ্দিন খাঁন জাবেদের সমর্থনে উপজেলার মাওলাগঞ্জ বাজার মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী ইসলামের নাম ব্যবহার করে আমেরিকা ও ভারতের মতো দেশগুলোর আদর্শ এবং বিদেশি সংস্কৃতি বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। তারা আসলে ক্ষমতার লোভে মত্ত হয়ে উঠেছে। বর্তমানে প্রচলিত নিয়মে দেশ পরিচালনার ফলে সাধারণ মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ৫৪ বছর ধরে মানুষ যে নীতি–আদর্শে চলছিল, সেই নীতি–আদর্শের কারণে এ দেশের মানুষ যা চেয়েছিল, তা পায়নি। ৫ বারের মতো দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান হয়েছে। বিশ্বের কাছে দুর্নীতি করে অপমানিত করেছে।
হাজার হাজার মায়ের কোল খালি হয়েছে। এদের পরিচালনায় দেশের টাকা পাচার হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশে ইসলামের পক্ষে আওয়াজ উঠেছে। একটি দল ইসলামের পরিবর্তে ক্ষমতালোভী হয়ে গেছে।
বক্তব্যে চরমোনাই পীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী সাইদুউদ্দিন খাঁন জাবেদের হাতে হাত পাখা প্রতীক তুলে দিয়ে বলেন, জাবেদ আপনাদের সন্তানের মতো, তার সম্মান রক্ষা করা আপনাদের দায়িত্ব। সে আমার ভাই, আপনাদের কাছে আমার আমানত রেখে গেলাম। এই অভিভাবকসুলভ ঘোষণা মুহূর্তেই বিশাল জনসমাগমে ব্যাপক আবেগ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
জাবেদ তার বক্তব্যে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ‘জনকল্যাণমূলক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ বাঞ্ছারামপুরকে একটি উন্নত ও আধুনিক উপজেলায় পরিণত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন, যা স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আশার সঞ্চার করে।
এ সময় আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের কাছে ফুল দিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে ১০০ নেতাকর্মী ইসলামী আন্দোলনে যোগ দেন।