ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু গত ৫৪ বছরে দেশ পরিচালনাকারীদের মাধ্যমে এসব লক্ষ্য বাস্তবায়িত হয়নি। বরং দুর্নীতি, লুটপাট ও অবিচারের কারণে দেশ বারবার বিশ্বে নেতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) লক্ষ্মীপুর-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব জাকির হোসেন পাটোয়ারীর সমর্থনে রামগঞ্জ পৌর শিশুপার্কে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, “হাজার হাজার মায়ের কোল শূন্য হয়েছে, দেশের টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, সন্তানরা পঙ্গুত্ববরণ করেছে—এ অবস্থা আর কতদিন চলবে?” তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশকে আর কতবার দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন বানানো হবে।
তিনি আরও বলেন, কোরআনের ঘোষণা অনুযায়ী কোনো জাতি নিজের ভাগ্য পরিবর্তনে উদ্যোগী না হলে আল্লাহ তাদের অবস্থার পরিবর্তন করেন না। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ইসলামের পক্ষে একটি ব্যালট বাক্সের দাবি জানালে জনগণের ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেলেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল ইসলামী আদর্শের পরিবর্তে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দেশ পরিচালনার ঘোষণা দেয়। এতে হতাশ হয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইসলামের ইজ্জত রক্ষায় হাতপাখা প্রতীক নিয়ে এককভাবে ২৫৮ আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
লক্ষ্মীপুর-১ আসনের প্রার্থী সম্পর্কে তিনি বলেন, “জাকির হোসেন পাটোয়ারী একজন সৎ ও ভালো মানুষ। আলেম সমাজ, শিক্ষিত শ্রেণি, শ্রমিক, কৃষক, দিনমজুর, ছাত্র-যুবক ও মা-বোনদের প্রতি আমার আহ্বান—আপনারা যারা ইসলাম ও দেশকে ভালোবাসেন, তারা হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিন।”
তিনি বলেন, “নতুন শাড়িতে পুরোনো লোকদের দিয়ে কখনো শান্তি আসতে পারে না। হাতপাখার প্রার্থীরা বিজয়ী হলে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই দেশকে একটি সত্যিকারের সোনার বাংলাদেশে রূপ দেওয়া সম্ভব হবে—ইনশাআল্লাহ।”
জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রার্থী আলহাজ্ব জাকির হোসেন পাটোয়ারী দল-মত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে রামগঞ্জবাসীর ভোট ও দোয়া কামনা করে বলেন, “আমি আপনাদের শাসক হতে নয়, খাদেম হতে চাই।”