ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশে যে ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, সেটিকে নস্যাৎ করতে একটি দল মরিয়া হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “আজ সারা দেশের মানুষ স্পষ্টভাবে দেখছে—ওই দল বাংলাদেশে গণতন্ত্র চায় না, তারা মাফিয়াতন্ত্র চায়।”
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। গাজীপুরে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে নারী হত্যার অভিযোগ এবং সারাদেশে বিএনপির নারী নিপীড়নের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে সাদিক কায়েম বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে যেভাবে পেছনের রাস্তা ব্যবহার করে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসেছিলেন, সেই একই কাঠামো এখনো একটি দল টিকিয়ে রাখতে চায়। জুলাই বিপ্লবের দেড় বছর পার হলেও এই সময়জুড়ে ওই দলের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে—চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস ও মাফিয়াতন্ত্রই ছিল তাদের মূল রাজনীতি।
তিনি আরও বলেন, “জুলাই বিপ্লবের দেড় বছর পর ওই দলের একজন শীর্ষ নেতা দেশে ফিরেছেন। তার ফেরার পর থেকেই তাদের সন্ত্রাসীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।” দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক ধারার যে বিকাশ ঘটছে, সেটি বন্ধ করতেই তারা মরিয়া বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সাদিক কায়েম বলেন, নির্বাচন কমিশনের সামনে মব সৃষ্টি করে এবং বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করার মাধ্যমে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন বন্ধ করা হয়েছে। “এটাই প্রমাণ করে, তারা গণতন্ত্র নয়—ক্ষমতার দখলদারিত্ব চায়,” বলেন তিনি।
ডাকসু ভিপি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন ইনসাফ ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিগত পাঁচটি ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জনগণ সেই বার্তাই দিয়েছে। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ইনসাফের প্রতিনিধিদের বিজয়ী করতে জনগণ মুখিয়ে আছে বলেই ওই দলটি দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
নারী নিপীড়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কাপুরুষের মতো তারা সারাদেশে মা-বোনদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—আর যদি কোনো মা-বোনের ওপর হামলা করা হয়, তাহলে এ দেশের ১৮ কোটি মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।”
এ সময় ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় যেতে মরিয়া হয়ে পড়েছে এবং তাদের আচরণে কোনো সংযম দেখা যাচ্ছে না। “যে দল মা-বোনদের নিরাপত্তা দিতে পারে না, তাদের হাতে দেশ কীভাবে নিরাপদ থাকবে?”—প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সমাবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “মা-বোনদের ওপর কাপুরুষোচিত হামলার পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। ইসলামী ছাত্রশিবির যতদিন থাকবে, ততদিন এ ধরনের হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চলবে।”
এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে রাজু ভাস্কর্য প্রদক্ষিণ করে শাহবাগ চত্বরে এসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের ‘চাঁদাবাজি নিপাত যাক, দেশের মানুষ মুক্তি পাক’, ‘প্ল্যান প্ল্যান কোন প্ল্যান—মানুষ মারার মাস্টারপ্ল্যান’, ‘চাঁদাবাজ আর স্বৈরাচার—মিলমিশে একাকার’ এবং ‘তারেক তোমার প্ল্যান কী—মানুষ খুনের রাজনীতি’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।