বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে দেশের শাসনক্ষমতায় থাকা তিনটি দল দেশটিকে লুটেপুটে খেয়েছে। এখন সময় এসেছে সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে পরিবর্তনের পথে হাঁটার। তিনি বলেন, “এবার শান্ত হয়ে দাঁড়িপাল্লাকে দেশ পরিচালনার সুযোগ দিতে হবে।”
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চাঁদপুর-৩ (সদর–হাইমচর) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. শাহজাহান মিয়ার নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন এবং নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে রায় দেবেন।”
নারীদের নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তুলে ধরে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “একজন নেতা হুমকি দিয়ে বলেছেন—জামায়াতের নারীরা ভোট চাইতে গেলে তাদের কাপড় খুলে নেওয়া হবে। ভোটের আগে যদি এমন কথা বলা হয়, তবে ভোটের পরে দেশের কী অবস্থা হবে তা সহজেই বোঝা যায়। তাই মা-বোনদের ইজ্জত রক্ষা এবং খুনিদের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করতে হবে।”
তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনে শহীদদের রক্ত, আহতদের ত্যাগ এবং মানুষের স্বপ্নকে কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। গ্রামেগঞ্জে এখন দাঁড়িপাল্লার পক্ষে জোয়ার উঠেছে। সেই জোয়ার দেখে কেউ কেউ দিশেহারা হয়ে পড়েছে এবং এখন ‘না’ ভোটের কথা ছড়াচ্ছে।”
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “এই তিনটি দল বহুবার ক্ষমতায় থেকে পরীক্ষিত হয়েছে। কিন্তু নৈতিকতা, সততা, আদর্শ, মানবতা, দেশপ্রেম—সব পরীক্ষায় তারা ব্যর্থ হয়েছে। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে চাই, তারা কি দাবি করতে পারবে যে তাদের শাসনামলে দুর্নীতি হয়নি? তারা ভিন্নমত দমন করেছে, বিচারব্যবস্থা ধ্বংস করেছে, অর্থনীতি পঙ্গু করেছে এবং হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “সাধারণ মানুষ বলছে—৫৪ বছরের শাসন দেখেছি, এবার পরিবর্তন চাই। আমরা আবার দুর্নীতিবাজ ও দুঃশাসকদের ফেরাতে চাই না। আমরা চাই ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সরকার, যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।”
নির্বাচনী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভোটের দিন প্রতিটি ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। একটি কেন্দ্রের জন্য অন্তত ২০০ জন উপস্থিত থাকতে হবে। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে সিসি ক্যামেরা, পুলিশের বডি ক্যামেরা এবং সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছি। কেন্দ্র দখল বা ব্যালট ছিনতাই করতে দেওয়া হবে না। কোনো সন্ত্রাসী এলে তাদের ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণ করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন **বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির–এর কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, “যারা দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, তারাই এখন দুর্নীতি রোধের কথা বলছে—এটা শিয়ালের কাছে মুরগি পাহারা দেওয়ার মতো। যাদের হাতে ইসলাম ও ইনসাফ আছে, দেশ কেবল তাদের হাতেই নিরাপদ।”
চাঁদপুর শহর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান খানের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন চাঁদপুর-৩ আসনের প্রার্থী মো. শাহজাহান মিয়া, চাঁদপুর-৪ আসনের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, কুমিল্লা অঞ্চলের নির্বাচনী টিম সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভুঁইয়াসহ অন্যান্য নেতারা।
অনুষ্ঠানে ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। জনসভা সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আফছার উদ্দিন মিয়াজী ও সেক্রেটারি মো. জোবায়ের হোসেন খান।
এর আগে সকালে ফরিদগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আয়োজনে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এবং বিকেলে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে পৃথক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।