বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমরা কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার দেখতে চাই না। আমরা চাই একটি মানবিক বাংলাদেশ। আদিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের কোনো স্থান এ দেশে হবে না।”
শনিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে চৌদ্দগ্রাম এইচ জে পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আপনারা যদি আমাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ দেন, তাহলে ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে মন্ত্রিসভার সিনিয়র সদস্য হিসেবে দেখতে পাবেন—এই প্রতিশ্রুতি আমি দিচ্ছি। এখন সিদ্ধান্ত আপনাদের—চৌদ্দগ্রামের মানুষ এই সুযোগ নেবেন কি না।”
তিনি আরও বলেন, “বিগত সময়ে অগণিত নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হলেও আমরা দেশ ছেড়ে যাইনি। আমরা ছিলাম, আছি এবং ইনশাআল্লাহ থাকব। আমরা মজলুম ছিলাম বলেই মজলুমের কষ্ট বুঝি, তাই কখনো জালিম হব না।”
দেশব্যাপী নারী নির্যাতনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কোনো মা-বোনের গায়ে হাত দেওয়া হলে আমরা চুপ করে থাকব না। যেখানে অন্যায় হবে, সেখানেই সাহসী যুবকদের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে—যেমনটা জুলাইয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে হয়েছিল।”
মা-বোনদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, “আপনারা ভয় পাবেন না। ভয় দেখিয়ে যেন আপনাদের ন্যায়ের পথ থেকে সরানো না যায়। ন্যায়ের পক্ষে ভোট দিন, চাঁদাবাজদের রুখে দিন। জামায়াত ক্ষমতায় এলে মা-বোনেরা নিরাপদে থাকবেন।”
তিনি বলেন, “আপনারাই সেই মায়েরা, যারা আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ ও ওসমান হাদিদের মতো সন্তান জন্ম দিয়েছেন। যারা ভয় দেখাতে চায়, তাদের স্পষ্ট করে বলুন—আমরা ভোট দেব, ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে দেব, পারলে ঠেকাও।”
যুব সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা দিতে চাই না। আমরা চাই তাদের দেশ গড়ার কারিগর বানাতে। কর্মসংস্থানের মাধ্যমে যুবসমাজকে সম্মানের জায়গায় পৌঁছে দিতে চাই।”
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন চৌদ্দগ্রাম আসনের ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। এতে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সভাপতি নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হকসহ জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।