জামায়াত ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে জয়ী হলে ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই দেশে পরিবর্তনের সূচনা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। চাঁদাবাজমুক্ত ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, চাঁদাবাজির কবল থেকে দেশকে মুক্ত করতে হলে আমরা নির্দয় ও নিষ্ঠুর হব।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুর, কারওয়ানবাজার ও বনানীতে পৃথক নির্বাচনী সভায় এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। কারওয়ানবাজারের সমাবেশে ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালিয়ে তিনি বলেন,
যুব সমাজের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতেই চাঁদাবাজমুক্ত ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি। যুবকদের কারণেই আজ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাচ্ছি।
যুব সমাজকে চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও অস্ত্রবাজ বানানোর চেষ্টা সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ার করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তরুণদের বেকার ভাতা নয়, সম্মানজনক কাজ দিতে হবে। কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে।
চাঁদাবাজ রাজনীতিবিদদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে তিনি বলেন,
‘রাজনীতিও করবেন! চাঁদাবাজিও করবেন! কিন্তু চাঁদাবাজ বলা যাবে না! এটা কোন ধরণের কথা? চাঁদাবাজি ছেড়ে দেন, আপনাকে কেউ চাঁদাবাজ বলবে না। চাঁদাবাজি বন্ধ করতে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাঠাবো না, আমরাও মাঠে নামবো।’
বৈষম্য নয়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন,
‘২৮ ডিসেম্বর চাঁদাবাজদের হাতেনাতে শিক্ষা দিয়েছিলেন কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা।’ তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণকেও এভাবেই চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
কারওয়ানবাজারে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির কারণে কৃষক, ভোক্তা ও ব্যবসায়ী সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পণ্য ঢাকায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে দাম তিন থেকে চার গুণ বেড়ে যায়।
ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলনের উত্থাপিত সমস্যাগুলোর কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ক্ষমতায় এলে এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হবে। অতীতেও জামায়াত কাজের মাধ্যমে প্রমাণ দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এর আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পাল্টা অভিযোগের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
‘অনন্ত তিনটি মন্ত্রণালয় দুর্নীতি থেকে বেঁচে যায়, সে জন্যই পদত্যাগ করেননি জামায়াতের নেতারা।’
৫ আগস্টের পর জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন,
‘৫ আগস্টের পর জামায়াত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কারও ওপর প্রতিশোধ নেবে না, জুলুম করবে না। জামায়াত কথা রেখেছে, মিথ্যা মামলা দেয়নি।’ আওয়ামী লীগ আমলে জামায়াত নেতাকর্মীদের আর্থিকভাবে নিঃস্ব করা হলেও তারা কারও সঙ্গে অন্যায় করেননি বলে দাবি করেন তিনি।
ভোটের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে জামায়াত আমির বলেন,
‘আলামত ভালো নয়। মা বোনদের গায়ে হাত দেওয়া হচ্ছে। জায়গায় জায়গায় হামলা হচ্ছে, বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। আপনারা বলেছেন, ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্বাচন উপহার দেবেন। এখনও জনগণ আশ্বস্ত হয়নি। অন্যথায় ব্যর্থতায় দায় নিতে হবে।’
নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ফল মেনে নেওয়ার কথা জানিয়ে বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘গণগন্ত্রের পথে হাঁটুন। আপনার কর্মসূচি আপনি চালিয়ে যান, জনগণের ইচ্ছা হলে গ্রহণ করবে।’
এর আগে মিরপুরে জামায়াতের নির্বাচনী ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
‘গত ৫৪ বছর যে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেশ চালানো হয়েছে, মাঝে মাঝে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে জুলুম করা হয়েছে। ফ্যাসিজম চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন,
‘দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন সমাজ চাই। নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ দেশ চাই।’ মিরপুর ও কাফরুল এলাকার দীর্ঘদিনের সন্ত্রাস পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যাদের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব, আল্লাহ যেন তাদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেন।
হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারের বাস উদ্বোধন করে জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচিত হলে জনগণের শাসক নয়, সেবক হতে চান। প্রয়োজনে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করবেন, তবুও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে দেবেন না।
শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহতের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান হুঁশিয়ার করে বলেন, গায়ের জোরে কিছুই করা যাবে না। সবাইকে সংযত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
কারওয়ান বাজারের সমাবেশে ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলনসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা বক্তব্য দেন। মিরপুরে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইনসহ ১১ দলের নেতারা।