ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, তার আয়-রোজগার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাইলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) গিয়ে খোঁজ নেওয়ার জন্য সবাইকে তিনি উন্মুক্ত চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন।
তিনি বলেন, “এনবিআরে গিয়ে আমার আয় দেখবেন। কিন্তু দেখে যেন মাথা ঘুরে পড়ে না যান। আমি কখনো চুরি করিনি, ডাকাতিও করিনি।”
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত প্রচারণা, গণসংযোগ ও পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় মির্জা আব্বাস বলেন, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তার বিজয় নিশ্চিত করতে কোনো সমস্যা হবে না।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিদিন সকালে একটি চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে নিয়ে অপপ্রচার চালায়। অথচ তিনি রাজপথে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন এবং দেশের গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে সবসময় কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, “আমরা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বা ভোট কারচুপির নির্বাচন চাই না। যার ভোট, সে যাকে খুশি তাকে দেবে—এই নীতিতে আমরা বিশ্বাস করি।”
দলের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, বহু আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বিএনপি আজকের অবস্থানে এসেছে। কিন্তু কিছু মানুষ দাবি করে, তারাই সব করেছে—এ ধরনের মানসিকতা দিয়ে কখনো দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, “আজ একটি দল মনে করছে দেশটা তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হয়ে গেছে। কেউ কেউ বলে বিএনপিকে একটি সিটও দেওয়া হবে না। আমি জানতে চাই—তোমরা সিট দেওয়ার কে? দেশ কি তোমরা ইজারা নিয়েছো? সিট দেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ।”
এই নির্বাচনকে বহু প্রতীক্ষিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোটাধিকার আদায়ের জন্য যেমন সংগ্রাম করতে হয়েছে, ঠিক তেমনি ভোট দেওয়ার অধিকার বাস্তবায়নের জন্যও আরেকটি লড়াই করতে হবে। যারা ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করছে, তাদের সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মির্জা আব্বাস দাবি করেন, সরকারের ভেতরে এখনও একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। সব ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই জনগণকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে বলে তিনি আহ্বান জানান।