ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির আলহাজ সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম (চরমোনাই পীর) বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে তারা ইসলামের একটি ‘বাক্স’ হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে সেই ইসলামের বাক্স ছিনতাই হয়ে যাওয়ায় জোট থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছেন তারা।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার নতুন বাসস্ট্যান্ড মাঠে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ মুফতি আবু তালেব মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের পক্ষে আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইসলামী বিধান ও আদর্শের আলোকে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কিন্তু বর্তমানে যারা ভিন্ন ধারা ও নীতিমালা চালু করতে চাইছে, তা মূলত আমেরিকান আদর্শনির্ভর।
এসব নীতির মাধ্যমে প্রকৃত ইনসাফ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। যে আদর্শিক ঐক্যের ভিত্তিতে তারা একত্রে ছিলেন, সেই একই আদর্শিক কারণেই জোট থেকে বেরিয়ে এসেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, অনেকেই মনে করতে পারেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একা হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবতা তা নয়। তাদের সঙ্গে আল্লাহ আছেন, ইসলাম ও দেশকে ভালোবাসেন—এমন অসংখ্য মানুষ আছেন।
জামায়াতের নেতাদের প্রসঙ্গে অভিযোগ করে চরমোনাই পীর বলেন, জামায়াতের শীর্ষ নেতারা গোপনে আমেরিকা ও ভারতের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ভবিষ্যতে তারা বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাস ও কূটনীতিকদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। বৈঠক করায় আপত্তি নেই, তবে গোপনে কেন এসব বৈঠক হচ্ছে—তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শ্রীবরদী উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি খন্দকার মাওলানা মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মুফতি শহিদুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থী মুফতি আবু তালেব মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন,
জেলা ইসলামী আন্দোলনের সহসভাপতি মাওলানা নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মুফতি ইসমাইল হোসেন জাফরী, ঝিনাইগাতী উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মো. ইব্রাহিম খলিল, সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা আতাউর রহমান আশরাফীসহ কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সভা শেষে প্রার্থী আবু তালেব মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের নেতৃত্বে একটি পথমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শ্রীবরদী বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।