ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, গত ৫৫ বছরে ব্যক্তি ও দলের উন্নয়ন হলেও দেশ ও জাতির প্রকৃত কল্যাণ হয়নি।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশকে নতুন করে গড়ার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে। অতীতে যারা বারবার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, তাদের নতুন করে দায়িত্ব দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নতুন বাংলাদেশ গড়তে নতুন বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার জন্য হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ি ও ছনবাড়ি বাজারে মুন্সিগঞ্জ-১ ও মুন্সিগঞ্জ-২ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতায় গেলে জনগণের অর্থ কারো পকেটে যাবে না। দুর্নীতি, অর্থপাচার ও সন্ত্রাসের কোনো স্থান থাকবে না—ইনশাআল্লাহ।
সমঝোতা ও রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অস্পষ্ট নীতি ও আদর্শ দিয়ে দেশ পরিচালনা সম্ভব নয়। ইসলামের পক্ষে ‘ওয়ান বক্স পলিসি’র কথা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশই প্রথম বলেছিল এবং সেই নীতি এখনও অটুট রয়েছে। “বর্তমানে একমাত্র আমরাই ইসলামের কথা বলছি, আর কেউ ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথা স্পষ্টভাবে বলছে না,”—বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দল ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে একা করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বাস্তবে তারাই এখন একা হয়ে গেছে। দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ ও উলামায়ে কেরাম ইসলামী আন্দোলনের পাশে রয়েছে এবং আল্লাহ তায়ালাও তাদের সহায়।
ইসলামী আন্দোলনের আমীর বলেন, ১৯৮৭ সাল থেকে সংগঠনটি মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে আসছে এবং কখনো লোভ-লালসার কাছে নীতি বিসর্জন দেয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, কেউ কেউ ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন বৈঠকে লিপ্ত রয়েছে, তবে এসব তৎপরতায় কোনো লাভ হবে না। “এই রাষ্ট্র এই দেশের জনগণই গড়বে, অন্য কেউ নয়,”—বলেন তিনি।
দেশের কল্যাণ, দ্বীন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়তে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, মুন্সিগঞ্জ-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হয়ে হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচন করছেন দলের সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান এবং মুন্সিগঞ্জ-২ আসনে একই প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি কে এম বিল্লাহ হোসেন।