কোনো অসৎ ও দুর্নীতিবাজ ব্যক্তির মনোরম বক্তব্য বা রঙিন প্রতিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যারা দেশের কথা বলবে, তাদের আগে নিজেদের চরিত্র ও সততার প্রমাণ দিতে হবে। দুর্নীতিবাজরা যত সুন্দর কথাই বলুক, তাদের বিশ্বাস করা যাবে না।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যজোট আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াতের আমির।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “অসৎ ও দুর্নীতিবাজরা নির্বাচনে রঙিন স্বপ্ন দেখিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে। তারা ধোঁকাবাজ—তাদের ‘ইয়েস’ নয়, বলতে হবে ‘লাল কার্ড’।” তিনি বলেন, জামায়াত দেশকে আর বিভক্ত বা টুকরো করতে চায় না; বরং সাম্য ও ঐক্যের ভিত্তিতে দেশ গড়তে চায়।
তিনি জানান, জনগণ যদি আগামী পাঁচ বছর দেশ পরিচালনার সুযোগ দেয়, তবে তিনটি শর্ত মানতে হবে—দুর্নীতি করা যাবে না, কাউকে দুর্নীতির আশ্রয় দেওয়া যাবে না এবং সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ‘বস্তাপচা’ রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতের আমির বলেন, ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতি যেন আর ফিরে না আসে—এমন বাংলাদেশ গড়তে দেশবাসী মুখিয়ে আছে, বিশেষ করে গণঅভ্যুত্থানে রক্ত দেওয়া যুবসমাজ। তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি অঙ্গীকার করেন।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পর মানুষ ভেবেছিল পতিত শাসন থেকে শিক্ষা নেওয়া হবে। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তিনি দাবি করেন, জামায়াত প্রতিহিংসার রাজনীতি চায় না এবং নিরীহ কাউকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলা দেওয়ার পথেও হাঁটেনি। “আমরা নিজেরা মজলুম ছিলাম, কাউকে মজলুম বানাতে চাই না,”—বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত একটি সাম্যভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চায়—যেখানে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ দাবিতে রাজপথে নামা তরুণদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত বেকার ভাতায় বিশ্বাস করে না। বরং প্রত্যেক কর্মক্ষম নারী-পুরুষকে দক্ষ করে মর্যাদাপূর্ণ কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে চায়। নারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, “ঘরে নারী ছাড়া যেমন জীবন চলে না, সমাজও নারী ছাড়া চলতে পারে না।” যোগ্যতা অনুযায়ী সব ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর নারীদের কর্মক্ষেত্রে সুযোগ দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খান-এর সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহসহ রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা।
শেষে ডা. শফিকুর রহমান প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং আসন্ন নির্বাচনে তাদের বিজয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।