“আমাকে নামাজের সময় বলা হতো না, দিন না রাত বুঝতে পারতাম না”—এভাবেই গুমঘরে বন্দিজীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান)। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশনের প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার–এর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলের সামনে তিনি টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেল (টিএফআই)-এ কাটানো দীর্ঘ বন্দিজীবনের বর্ণনা দেন। আরমান জানান, ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তাকে বাসা থেকে তুলে নেওয়া হয়। চোখ বেঁধে, হাতকড়া পরিয়ে সংকীর্ণ সেলে রাখা হয়, যেখানে দিন-রাতের কোনো ধারণা ছিল না।
তিনি বলেন, সেলে বাইরের শব্দ ঢুকতে না দেওয়ার জন্য সারাক্ষণ একজস্ট ফ্যান চালু রাখা হতো। নামাজের সময় জানানো হতো না, কোরআন শরিফ চাইলে দেওয়া হয়নি। এক প্রহরীর কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র–এর কর্মকর্তার কারণে কোরআন দেওয়া সম্ভব হয়নি।
ব্যারিস্টার আরমান আরও বলেন, আটটি রমজান তিনি বন্দিদশায় কাটিয়েছেন। শারীরিক নির্যাতন, অসুস্থতা ও মানসিক চাপের মধ্যেও তিনি বেঁচে থাকার চেষ্টা করেছেন। এই গুমের ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ উল্লেখ করে দায়ীদের বিচার দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার আরমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী।