রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দলটির ঢাকা মহানগরী উত্তর কর্মপরিষদের সদস্য শাহ আলম তুহিন।
মঙ্গলবার রাতে মিরপুরে আয়োজিত এক বিক্ষোভ-পরবর্তী সমাবেশে তিনি এ দাবি জানান। ‘মসজিদ থেকে মাগরিবের নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত সশস্ত্র হামলার প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে’ এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বিক্ষোভ মিছিলটি পীরের বাগ পাকা মসজিদের সামনে থেকে শুরু হয়ে বারেক মোল্লার মোড়ে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে কাফরুল পশ্চিম থানা জামায়াতের আমির আব্দুল মতিন খান, থানা নেতা আতিকুর রহমান রায়হান ও ওয়াহিদুর রহমানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে শাহ আলম তুহিন বলেন, পরাজয় নিশ্চিত জেনেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও যুবদলের নেতাকর্মীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্ট করতে বেআইনি তৎপরতা চালাচ্ছে। রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে তারা সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের পথ বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই নামাজ আদায় শেষে বিনা উসকানিতে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এতে ঢাকা মহানগরী উত্তরের শিবির সভাপতি হাফেজ আবু তাহেরসহ একাধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলার শিকার হয়েছেন নারী কর্মীরাও; তাদের কয়েকজনকে মারধর করে আহত করা হয়েছে।
শাহ আলম তুহিন অভিযোগ করেন, সেনা সদস্যদের উপস্থিতিতেই এ হামলা সংঘটিত হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হামলাকারীদের সহায়তা করেছে। এতে প্রমাণ হয় সরকার এখনো সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি অবিলম্বে হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান। অন্যথায় জনগণই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াত জানিয়েছে, নারী কর্মীদের হেনস্তা ও নেতাকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বুধবার সকালে প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৯টায় বারেক মোল্লা মোড় এলাকা থেকে মিছিলটি বের করা হবে বলে জানানো হয়েছে।