আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে এর দায় প্রধান উপদেষ্টার ওপরও বর্তাবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনে কোনো ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং করা যাবে না। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেষ্টা হলে তা ভেস্তে যাবে। এবারের নির্বাচন ২০০৮ সালের মতো নয়, বরং ১৯৯১ সালের মতো হতে হবে।’
এর আগে বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে চার সদস্যের এনসিপি প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে প্রবেশ করে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তাবিষয়ক উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মূসা।
বৈঠক শেষে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার নয়। তার দাবি, বিএনপির চাপে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এতে কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিরা নির্বাচনে অংশ নিক—এটি আমরা চাই না। এ বিষয়ে আমরা আদালতের শরণাপন্ন হব।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি ও চাপের কারণে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়েছে। ‘যদি মব তৈরি করে ইসির সিদ্ধান্ত বদলানো যায়, তাহলে আমাদেরও সেখানে যেতে হবে—কিন্তু আমরা সে পথে যেতে চাই না,’ বলেন তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর দেশে প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, তার আগমনের সময় ঢাকাজুড়ে পোস্টার ও ব্যানার থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়া-র মৃত্যু ঘিরে শোকসভার নামে প্রচারণা ও কম্বল বিতরণ করা হলেও নির্বাচন কমিশন নীরব রয়েছে।
তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বক্তব্য উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ প্রয়োগ, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ, নির্বাচন একপাক্ষিক করা এবং গণভোটে ‘না’ ভোটের প্রচার—এসব তার পরিকল্পনার অংশ কি না, তা জনসমক্ষে স্পষ্ট হওয়া উচিত।
নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসি সংস্কার ও গণভোটের বিরোধিতা করছে। কমিশন নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে এনসিপিকে অবস্থান নিতে হবে। তবে দলটি মুখোমুখি সংঘাত চায় না বলেও জানান তিনি।
এদিকে, এনসিপির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামোতে প্রাতিষ্ঠানিক ও মাঠপর্যায়ে একপাক্ষিক আচরণ দেখা যাচ্ছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় বাধা। এতে নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনগণের মধ্যে গুরুতর সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সারাদেশে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা প্রকাশ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এর আগে সোমবার দুপুরে এনসিপির দলীয় কার্যালয়ে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের ব্যয় নির্বাহের জন্য ক্রাউড ফান্ডিং কার্যক্রমে একটি ওয়েবসাইটের উদ্বোধন করেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ওয়েবসাইটটির মাধ্যমে দল ও প্রার্থীকে আলাদাভাবে অনুদান দেওয়া যাবে।