বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, অতীতের মতো কোনো নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিং আর দেখতে চান না তারা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন,
‘এটা আমরা একেবারেই বরদাশত করব না, ইনশা আল্লাহ। যেকোনো ধরনের কারচুপি, ভোট ডাকাতি এবং ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান থাকবে কঠোর ও পরিষ্কার।’
তার বক্তব্যে নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের বার্তা উঠে আসে।
যুবসমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন,
‘তোমাদের ভোট তোমরা দেওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে আসবা এবং ভোটের হিসাব নিয়ে ঘরে ফিরবা। আমরা তোমাদের সঙ্গে থাকব, ইনশা আল্লাহ।’
তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ভোটাধিকার রক্ষার দায়িত্ব এখন জনগণকেই নিতে হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জামায়াতের আমির। জামায়াতসহ এগারোটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ঐক্যের চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে মুখ্য বক্তব্য দেন শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন,
‘আগামী বারো ফেব্রুয়ারির নির্বাচনটা যেন জনগণের আকাঙ্ক্ষার নির্বাচন এবং সত্যিকার অর্থে সুষ্ঠু নির্বাচনে পরিণত হয়।’ তার ভাষায়, এই সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়েই একটি সোনালি সমাজ গঠনের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।
পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা সেই রাজনীতি আর চাই না, যে রাজনীতি ফ্যাসিবাদ হয়ে জাতির ঘাড়ে চেপে বসে।’ তিনি বলেন,
খুন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির রাজনীতিতে ফিরে যাওয়ার কোনো প্রশ্ন নেই। জামায়াত এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চায়, যেখানে জন আকাঙ্ক্ষা এবং বিশেষ করে তরুণদের প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হবে।
জনগণের সমর্থন চেয়ে শফিকুর রহমান বলেন,
‘আপনারা যে পরিবর্তন চান, সেই পরিবর্তনের দায়িত্ব নিয়ে আমরা মাঠে নেমেছি।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণ সব দিক থেকে তাদের পাশে থাকবে, সমর্থন দেবে এবং পরিবর্তনের এই লড়াইয়ে জনগণের বিজয় নিশ্চিত করবে।