আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তিনশ আসনের মধ্যে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট একাই ন্যূনতম দুইশ চল্লিশটি আসনে বিজয়ী হবে বলে দাবি করেছেন ফজলুর রহমান। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই দাবি করেন। তার বক্তব্যে তিনি বলেন,
‘আমি আগেও বলেছি, এখনো বলছি যে, যখন নির্বাচন হবে, বিএনপি জোট একাই আশি শতাংশ সিট পাবে অর্থাৎ তিনশ আসনের মধ্যে ন্যূনতম দুইশ চল্লিশটা আসনে জয়লাভ করবে।’ তিনি এনসিপির রাজনৈতিক শক্তিকে তুচ্ছ করে বলেন, ‘একটা ষাঁড়ের শিংয়ের ওপর একটা মাছি বসলে তাতে ষাঁড়ের কিন্তু খুব ওজন বাড়ে না।’
জোট গঠনের পর জামায়াত তাদের শক্তি বেড়েছে বলে যে দাবি করছে, সেই প্রসঙ্গে ফজলুর রহমান বলেন, সংখ্যার ভিত্তিতে রাজনৈতিক শক্তি বিচার করা যায় না। তিনি বলেন, ‘একটা বড় রুই মাছে দশটা তরকারি হয়, আর দশটা বইসা মাছ দিয়েও একটা তরকারি হয় না।’ তার মতে, বিএনপি একা নয়, তাদের সঙ্গে আরও অনেক রাজনৈতিক দল রয়েছে। দলগুলো আকারে ছোট হলেও তাদের নেতৃত্বের গুণাবলি ও ত্যাগ উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে দলটির কারণে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গি শক্তির হাত থেকে অনেকটাই রক্ষা পেয়েছে এবং বাহাত্তরের সংবিধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, সেই দল বিএনপি। তার ভাষায়, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে নানা ধরনের মানুষ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘দিনের শেষে খেলাটায় যদি আমি জয়লাভ করি এক গোলেও, তাহলে বুঝতে হবে আমি জয়ী দল।’
বিএনপির অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলটি এখনো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষেই রয়েছে। তার মতে, বিএনপি যদি সেই অবস্থান ধরে না রাখত, তাহলে এতদিনে মুক্তিযুদ্ধের সূর্য অস্তমিত হয়ে যেত।
গ্রামাঞ্চলে ধর্মীয় প্রলোভনের অভিযোগ প্রসঙ্গে ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি কোনো মৌলভি মাওলানা নই।’ তবে বহু আলেম ও জ্ঞানী ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে তিনি জেনেছেন, জামায়াতকে ভোট দিলে জান্নাত পাওয়া যাবে—এ ধরনের কথা কুফুরি। তিনি বলেন, ‘এই কথা যারা বলে, তারাই বরং দোজখে যাবে।’
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভোটের আগে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, হাজার বছরের ত্যাগ ও সংগ্রামের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা যেন সাম্প্রদায়িক ও বর্বর শক্তির হাতে নষ্ট না হয়। তিনি বলেন, ‘যার জন্য আপনাদের পূর্বপুরুষরা লাখে লাখে রক্ত দিয়েছে, মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছে, দুই লাখ মা বোন সম্ভ্রম হারিয়েছে—সেই স্বাধীনতার সূর্য যেন অস্তমিত না হয়।’ তিনি বারো ফেব্রুয়ারির দিকে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানান।