রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় নিজ বাসভবনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত আনোয়ার উল্লাহ ঢাকা মহানগরী উত্তরের শের ই বাংলা নগর দক্ষিণ থানার পশ্চিম রাজাবাজার ওয়ার্ডের সহ সভাপতি ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। পেশায় তিনি একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ও শিক্ষক ছিলেন। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার রাত আটটা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে বারান্দার গ্রিল এবং পরে একটি কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে দুই ব্যক্তি বাসায় প্রবেশ করে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাদের বের হতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, দুর্বৃত্তরা ভেতরে ঢুকে আনোয়ার উল্লাহ ও তার স্ত্রীর হাত পা বেঁধে তাকে নির্যাতন করে হত্যা করে। এরপর তারা আট ভরি স্বর্ণ ও নগদ পাঁচ লাখ টাকা লুট করে নেয়। পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। স্থানীয়দের কাছে আনোয়ার উল্লাহ একজন মানবিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
নিহতের জামাতা মো শামসুদ্দোহা জানান, ভোর পাঁচটার দিকে তার শাশুড়ি ফোন করে ঘটনার কথা জানান। তিনি বাসায় গিয়ে আনোয়ার উল্লাহকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। তার গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল। গুরুতর অবস্থায় তাকে নিকটবর্তী একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শের ই বাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক রুবায়েত রাকিব সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। প্রতিবেদনে নিহতের কপাল ও ডান হাঁটুতে আঘাতের চিহ্নের কথা উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়, দুর্বৃত্তরা তার হাত বেঁধে মুখে কাপড় গুঁজে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।