এবারের নির্বাচন যদি জনগণের হাতছাড়া হয়ে যায়, তাহলে আর কবে জনগণ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাবে তা অনিশ্চিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন,
এই নির্বাচনই জনগণের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। সোমবার জানুয়ারি বারো তারিখে রাজধানীর বসুন্ধরায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস আইজাবসের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের প্রতি আমাদের শতভাগ আস্থা রয়েছে। দেশের মা বোনেরাও আগামী নির্বাচনে জামায়াতকে বেছে নেবে বলে তিনি প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। তার বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, জনগণ সুশাসনের পক্ষে রায় দেবে এবং সেই রায়ের মাধ্যমেই আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনার দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হবে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, আগামী নির্বাচনে দেশের জনগণ সুশাসন নিশ্চিত করবে। আমরা শুধু চাই নির্বাচনটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হোক। তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যদি অন্য কোনো দলকে বেছে নেয়, তাহলে সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে সহযোগিতা করা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সংস্কারের পক্ষে যারা থাকবে, জামায়াত তাদের সঙ্গেই থাকবে বলে তিনি জানান।
তবে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কার কথাও তুলে ধরেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, কোনো শঙ্কা তৈরি হলে তা আগে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে। সমাধান না হলে জাতির সামনে বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলে ধরা হবে। তার মতে, জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না।
এ সময় দেশের গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যম একটি নির্দিষ্ট দলের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। অভ্যুত্থানের সময়েও গণমাধ্যমের একটি অংশ একই ধরনের পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা পালন করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, আমরা চাই গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করুক। গণমাধ্যম যদি নিজেরাই পরাধীনতার শৃঙ্খল গলায় পরে নেয়, তাহলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল হবে। প্রশাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা জনগণ সবই মনে রাখছে এবং জনগণকে বোকা ভাবার কোনো সুযোগ নেই।
নির্বাচনে জয়ী হলে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিবেশীসুলভ আচরণ করা হবে বলেও জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সমতার ভিত্তিতে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি তিনি জানান, মঙ্গলবারের মধ্যেই এগারো দলের আসন সমঝোতা দৃশ্যমান হবে।