ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীন কিংবা রাশিয়া কেউ যদি নাক গলানোর চেষ্টা করে, তাহলে বাংলাদেশের আপামর জনতা দাঁতভাঙা জবাব দেবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন শুধুই একটি ভোটের লড়াই নয়; এটি বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার, মানবাধিকার ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার নির্বাচন।
গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর বাড্ডার শাহজাদপুর এলাকায় জড়ো হয়ে বারিধারায় অবস্থিত ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের দিকে মিছিল শুরুর আগে এসব কথা বলেন আদীব। ঢাকা-১৮ আসনে এনসিপির প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ফেলানী দিবসে তারা শপথ নিতে চান যে, আগামীর বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এনসিপির প্রতিটি নেতাকর্মী জীবন দিয়ে লড়াই করবে। তিনি দাবি করেন, সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে ফেলানী দিবসকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষণা করতে হবে।
সীমান্তে ফেলানী খাতুন হত্যার ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘আধিপত্যবাদ বিরোধী মার্চ’ কর্মসূচি পালন করে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার বিকেলে বাড্ডার শাহজাদপুরে সমবেত হয়ে নেতাকর্মীরা বারিধারার দিকে মিছিল শুরু করেন। হাইকমিশনের কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিলটি আটকে দেয়। এরপর এনসিপির নেতাকর্মীরা কুড়িলমুখী সড়কে অবস্থান নিয়ে স্লোগান ও বক্তব্য দেন।
আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, সীমান্তে শুধু ফেলানীকে ঝুলিয়ে রাখা হয়নি, সেদিন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতাকেও ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের মদদেই আওয়ামী লীগ পিলখানা ও শাপলা চত্বরে গণহত্যা চালিয়েছিল।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘গোলামী না আজাদী, আজাদী আজাদী’, ‘ভারতীয় আগ্রাসন, রুখে দাও জনগণ’সহ নানা স্লোগান দেন। ‘আধিপত্যবাদ বিরোধী মার্চ’ থেকে বক্তারা বলেন, ফেলানী হত্যার ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো বিচার হয়নি, যা বাংলাদেশের জন্য চরম লজ্জাজনক। তারা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে অভিযোগ তোলা হয়, আওয়ামী লীগ আমলে ভারত বাংলাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে হস্তক্ষেপ করে জনগণের ভোটাধিকার ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত সব কর্মকর্তা ও ব্যক্তিকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। নেতাকর্মীরা বলেন, শরিফ ওসমান হাদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।