আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, তিনি অতীতেও শক্তিশালী শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন এবং ভবিষ্যতেও যিনি অন্যায় করবেন, তার বিরুদ্ধেই অবস্থান নেবেন। তিনি বলেন, “আপনারা দেখেছেন, শক্তিশালী শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে কিভাবে কথা বলেছি। যে অন্যায় করবে, তার বিরুদ্ধেই আমি বলে যাব। আমি শেখ হাসিনাকে চোখ রাঙায়ে চলে আসছি। আর কোনো বাপের বেটা নেই আমাকে থামাতে পারে।”
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের কুচনী গ্রামে আয়োজিত এক নির্বাচনি পথসভায় এসব বক্তব্য দেন তিনি।
রুমিন ফারহানা বলেন, তার একমাত্র ভরসা আল্লাহ তায়ালা এবং তিনি কেবল আল্লাহকেই ভয় করেন। তিনি বলেন, জমিনে ফয়সালা হয়—এমন বিশ্বাস তিনি করেন না, তাই দুনিয়ার কাউকেই তিনি ভয় পান না।
নিজের নির্বাচনি এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নেতাকর্মীদের একটাই দাবি ছিল দলীয় প্রার্থী দেওয়া। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যখন দলীয় প্রার্থী থাকার কথা ছিল, তখন কেন ভাড়া করা প্রার্থী এনে মনোনয়ন দেওয়া হলো। তিনি বলেন, সেই প্রার্থীর প্রতীক খেজুর গাছ, আর এখন শোনা যাচ্ছে ধান আর খেজুর গাছ নাকি এক হয়ে গেছে।
এ সময় রুমিন ফারহানা রূপক উদাহরণ টেনে বলেন, হাঁসকে কখনো বাঘ বানানো যায় না। হাঁস হাঁসই থাকবে, বাঘ বাঘই থাকবে। খেজুর গাছ মরুভূমির প্রতীক, আর ধান বাংলার মানুষের প্রাণের সঙ্গে জড়িত।
চাঁদাবাজি, ব্যবসা দখল ও বালু লুটের সঙ্গে জড়িতদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, নির্বাচনে এক দল যাবে, আরেক দল আসবে—এটাই রাজনীতির স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু দুই মাসের মধ্যে দুইশ কোটি টাকার মালিক হয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি চলতে পারে না। তিনি বলেন, মানুষ এমনিতে প্রতিবাদ করে না, কিন্তু যখন জেগে ওঠে তখন কী হয়, তা ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা বুঝে গেছেন।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় তাকে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এই আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিবকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।