প্রশাসন নিরপেক্ষতা হারিয়ে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়েছে—এমন অভিযোগ করেছেন কুমিল্লা–৪ (দেবিদ্বার) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ।
শুক্রবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই শেষে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, ফ্যাসিবাদ বিদায়ের পর জনগণ যে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রশাসনের প্রত্যাশা করেছিল, বাস্তবে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। তাঁর ভাষায়, বর্তমান প্রশাসনের দ্বিচারিতা ও পক্ষপাতমূলক আচরণ গভীর হতাশার জন্ম দিয়েছে এবং তারা বিশেষ করে বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়েছে।
তিনি বলেন, দেবিদ্বার–৪ আসনের এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় নিয়ম ভঙ্গ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও প্রশাসন ওই প্রার্থীর মনোনয়ন অনুমোদন দিয়েছে, যা প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত।
এই ঘটনার ফলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে দেখা যাচ্ছে কীভাবে জুলাই আন্দোলনের অর্জনকে ধীরে ধীরে কুক্ষিগত করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলা হয়েছে এবং প্রকাশ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি-কে গুলি করে হত্যা করা হলেও এখনো এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান বিচারিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তা তিনি প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনে সংস্কারের কথা বলা হলেও কিছু রাজনৈতিক দল নিজেদের ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে সেই সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। তবে আসন্ন নির্বাচনই প্রমাণ করবে প্রশাসনে প্রকৃত সংস্কার হয়েছে কি না।
দেবিদ্বারবাসীর উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত জনগণ এবার তাদের অধিকার ফিরে পেয়েছে। তিনি জানান, মা-বোন, শিক্ষক, চিকিৎসক, কৃষক, শ্রমিকসহ সব শ্রেণি–পেশার মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়েই তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে তিনি ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, ১২ তারিখ সবাই কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন এবং ইনশাআল্লাহ জনগণের ভোটে শাপলা কলি প্রতীক বিজয়ী হবে।
এদিকে যাচাই–বাছাই শেষে কুমিল্লার ছয়টি সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ ইউসুফ হাকিম সোহেল-সহ মোট ১৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে এবং একজনের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে। জেলা রিটার্নিং অফিসার তাঁদের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন। তবে কুমিল্লা–৪ আসনে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।