দেশে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী একটি ন্যারেটিভ দাঁড় করানোর অপচেষ্টা চলছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন,
মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে কোনো নাগরিক অবস্থান গ্রহণ করতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধই আমাদের পরিচয় দিয়েছে, স্বাধীন ভূখণ্ড দিয়েছে এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
শুক্রবার ২ জানুয়ারি রাজধানীর জিয়া উদ্যানে মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও পুষ্প অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
ইশরাক হোসেন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশ সবার আগে, দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, অন্য কোনো দেশ নয়। এই অবস্থানই বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনকে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো সময় আপস হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না বলে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শের উত্তরাধিকার হিসেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বকে জনগণ কীভাবে গ্রহণ করেছে, তা তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনেই স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে দেশি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, কূটনৈতিক মহল এবং সুশীল সমাজে গত এক বছরে তারেক রহমানের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে দেওয়া রূপরেখা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইশরাক হোসেন বলেন, একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে তারেক রহমান পররাষ্ট্রনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশগত বিপর্যয় ও বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার বাস্তবভিত্তিক সমাধানও জাতির সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ একটি সংবেদনশীল অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে উপমহাদেশীয় ও আন্তর্জাতিক শক্তির নানা স্বার্থ জড়িত। এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন ভূখণ্ড, স্বাধীন রাষ্ট্র, জাতীয় পতাকা ও সংবিধান অক্ষুণ্ন রেখে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, বেকারত্ব দূরীকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বিদেশে কর্মরত ও কর্মপ্রত্যাশী শ্রমিকদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে বৈদেশিক আয় বহুগুণে বাড়ানো সম্ভব। এসব লক্ষ্য অর্জনে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে জিয়া পরিবার কখনো আপস করেনি। ওয়ান ইলেভেন কিংবা পরবর্তী সময়েও আপস করলে ইতিহাস ভিন্ন হতো। জিয়া পরিবার শুধু একটি পরিবার নয়, তারা লাখো সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে। এই পরিবারের ওপর আঘাত মানে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী জনগণের ওপর আঘাত।
বেগম খালেদা জিয়ার কারাজীবনের প্রসঙ্গ টেনে ইশরাক হোসেন বলেন, গুরুতর অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি কারাবরণ করে প্রমাণ করেছেন বাংলাদেশের প্রশ্নে কোনো আপস নেই। কারাজীবনের কঠিন বাস্তবতা তিনি জানতেন, তবুও আপোষের পথ বেছে নেননি।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও গণতন্ত্র এই মৌলিক বিষয়গুলোকেই সামনে রেখে আগামী দিনে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কে এম কামরুজ্জামান নান্নুসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।