ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের আন্দোলন ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনস্থলে মানুষের উপস্থিতি আরও বাড়ছে। ইনকিলাব মঞ্চ সারারাত শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে মানুষ শাহবাগে এসে আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন। তীব্র শীত উপেক্ষা করেই আন্দোলনকারীরা রাজপথে অবস্থান করছেন। শীত নিবারণের জন্য আন্দোলনকারীদের মধ্যে কম্বল বিতরণ করতেও দেখা গেছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনস্থলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারীও উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যার তুলনায় গভীর রাতে শাহবাগে মানুষের ঢল আরও বেড়েছে। জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে তারা উচ্চকণ্ঠে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দিচ্ছেন।
আন্দোলনকারীদের স্লোগানে শাহবাগ মুখরিত হয়ে উঠেছে। ‘হাদি মানে আজাদি, হাদি মানে ইনসাফ’, ‘এক হাদির রক্ত থেকে লক্ষ হাদি জন্ম নেবে’, ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’, ‘ভারতের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘আপস না হাদি হাদি’, ‘আওয়ামী লীগের চামড়া তুলে নেব আমরা’, ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’—এই স্লোগানগুলোতে আন্দোলনের তীব্রতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
শাহবাগে অবস্থানরত হাতিরপুল এলাকার বাসিন্দা জাহেদ হাসান বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। তার দাবি একটাই—শহীদ হাদি হত্যার বিচার। তার ভাষায়, বিএনপি, জামায়াতসহ বড় রাজনৈতিক দলগুলো এখনো নীরব, কেউ দৃশ্যমান কোনো কর্মসূচি দেয়নি। কষ্ট হলেও তিনি বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জানা গেছে, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে শাহবাগে এই অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। ইনকিলাব মঞ্চ ঘোষণা দিয়েছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাতভর আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর থেকেই দেশজুড়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে, যার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে শাহবাগ।