বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের আদর্শবাদী আন্দোলনকে যুক্তি ও আদর্শ দিয়ে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েই একটি মহল অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের আশ্রয় নিচ্ছে।
তিনি বলেন, বহু আত্মত্যাগ ও শাহাদাতের রক্তের বিনিময়ে ছাত্রশিবির আজ যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তা সহজে অর্জিত হয়নি। একটি কালো অধ্যায় পেছনে ফেলে জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে নেওয়ার সময়েই নতুন করে ষড়যন্ত্র দৃশ্যমান হচ্ছে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির–এর কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন–২০২৫ অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—জাতি কখনো দীর্ঘদিন মিথ্যাচারকে সত্য বলে মেনে নেয় না। যখন আদর্শ ও যুক্তির ময়দানে পরাজয় নিশ্চিত হয়, তখনই অপপ্রচার, গুজব ও বিভ্রান্তির পথ বেছে নেওয়া হয়। সন্ত্রাস দিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবির ও আধিপত্যবাদবিরোধী ইসলামী জনতার সংগ্রাম দমন করা না গেলে প্রযুক্তিনির্ভর অপপ্রচার চালিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রশিবিরকে কখনো স্বাধীনতাবিরোধী, কখনো রগকাটা বা গুপ্ত সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাস্তবতা স্পষ্ট—চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ সাধারণ মানুষ এসব অপবাদ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং প্রমাণ করেছে যে শিক্ষার্থীরা মিথ্যা প্রচারে বিভ্রান্ত হয়নি।
ছাত্রশিবিরের পাশে গোটা জাতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে এই সংগঠনের যাত্রায় জনগণ সহযাত্রী হবে। ইসলামী ছাত্রশিবির এমন এক প্রাণশক্তি, যারা দুনিয়ার স্বার্থ-সম্পদ ও মর্যাদা ত্যাগ করে আখিরাতের বিনিময়ে দ্বীনের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। তাদের দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জীবন বিলিয়ে দেয়, তাদেরকে খুন, ফাঁসি, রিমান্ড, আয়নাঘর কিংবা ক্রসফায়ারের মাধ্যমে থামানো যায় না। নতুন বছরে ছাত্রশিবিরের জীবনে নতুন সূর্যোদয় ঘটুক—এই কামনার সঙ্গে সঙ্গে বাংলার জমিনেও একটি নতুন বাংলাদেশের সূচনা হোক।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জাহিদুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন সাদ্দাম হোসেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খানসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।