আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এটিএম আজাহারুল ইসলাম। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে রংপুরের বদরগঞ্জে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজাহারুল ইসলাম রংপুর-২ (তারাগঞ্জ–বদরগঞ্জ) আসনে দলটির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে যেন জনগণ ভয়ভীতি ছাড়া নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে জন্য সরকারকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় সব দল যেন সমান সুযোগ পায়, সে বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে আরও দায়িত্বশীল ও উদার ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
এটিএম আজাহারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৭ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এই অর্থ দেশেই বিনিয়োগ হলে জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন সম্ভব হতো। তিনি বলেন, দক্ষ ও শিক্ষিত যুবসমাজকে কাজে লাগিয়ে শিল্পবিপ্লব ঘটানো গেলে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরের চেয়েও উন্নত দেশে পরিণত হতে পারত।
নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শ্যামপুর চিনিকল পুনরায় চালু করা হবে। এতে শত শত বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং কৃষকদের কৃষি অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
পাশাপাশি বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ উপজেলার হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণ এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
জামায়াতের এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, জামায়াতে ইসলামী সমাজে শান্তি ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এ লক্ষ্যেই সারাদেশে সৎ, যোগ্য ও চরিত্রবান প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে জামায়াত শোষণ, জুলুম ও বঞ্চণামুক্ত ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আগামী নির্বাচনে দলটির প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
মতবিনিময়কালে সাংবাদিকদের উদ্দেশে এটিএম আজাহারুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের বিবেক। কল্যাণমুখী ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতার মাধ্যমে তারা মানুষের কথা, দেশের কথা এবং জাতির কথা রাষ্ট্রের সামনে তুলে ধরতে পারেন।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।