নিরাপদ বাংলাদেশ ও ‘এক স্বপ্নিল পরিকল্পনা’র বার্তা নিয়ে দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে তার প্রত্যাবর্তন ও রাজধানীর ৩০০ ফিটে দেওয়া ভাষণকে ঘিরে দিনভর ছিল রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) তাকে বহনকারী উড়োজাহাজটি সিলেটে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির পর ঢাকার পথে যাত্রা করে এবং সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এ অবতরণ করে। বিমানবন্দরে পৌঁছেই শুরু হয় গণসংবর্ধনার কর্মসূচি। সময়ের হিসাবে প্রায় ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর দেশের মাটিতে পা রেখে দিনটি হয়ে ওঠে ‘টক অব দ্য টাউন’।
বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে আবেগঘন মুহূর্তে তিনি পাদুকা খুলে খালি পায়ে শিশিরভেজা ঘাসে হাঁটেন, হাতে তুলে নেন এক মুঠো মাটি। উপস্থিতদের মতে, এই দৃশ্য ছিল দেশ ও মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রতীক। এরপর তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে ফোন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং শিগগির সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এরপর ৩০০ ফিটের মঞ্চে দেওয়া ভাষণে তারেক রহমান জাতীয়তাবাদ, পাহাড়–সমতলের মেলবন্ধন, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং সাম্যের ভিত্তিতে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ নির্মাণের—যেখানে নারী–পুরুষ–শিশু নির্বিশেষে সবাই নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ফিরতে পারবে।
ভাষণে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায় আজকের প্রজন্মের। তরুণদের উদ্দেশে তিনি ধৈর্য ও ঐক্যের আহ্বান জানান।
মার্টিন লুথার কিংয়ের ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, দেশের মানুষের জন্য তার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে—যার লক্ষ্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা। শহীদ শরীফ ওসমান হাদি–সহ জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, তাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে পারলেই শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ হবে।
বক্তব্য শেষে তার গাড়িবহর এভারকেয়ার হাসপাতাল–এর দিকে রওনা হয়। পথে সড়কের দুই পাশে হাজারো নেতাকর্মী প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার অপেক্ষায় ছিলেন। তারেক রহমান হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। ভিড়ের কারণে কিছুটা বিলম্ব হলেও সন্ধ্যা ৫টা ৫৩ মিনিটে তিনি হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসাধীন মা, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া–কে দেখতে যান।
দিনশেষে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন ও দেওয়া বার্তা—নিরাপদ বাংলাদেশ, ঐক্য এবং মানুষের স্বার্থে এক স্বপ্নিল পরিকল্পনা—আগামী দিনের রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন তার অনুসারীরা।