সংস্কারের দাবিতে জীবন গেলেও পিছপা হবেন না—এমন দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যারা আমাদের হত্যা করতে চেয়েছিল, তারা এখনো একই অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে বাংলাদেশের রাজনীতি বদলে দেওয়ার জন্য যে সংস্কারের দাবি তোলা হয়েছে, সে পথ থেকে জীবন গেলেও সরে আসা হবে না।
বুধবার বিকেলে গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের উদ্যোগে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদী–কে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে ফেনীতে আয়োজিত শোক ও সংহতি সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, যারা শহীদ ওসমান হাদীকে ‘গিনিপিগ’ বলে অবমাননা করে, এমনকি তার নামটিও সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারে না—এই প্রজন্ম তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি অভিযোগ করেন, নিয়ন্ত্রিত লটারির মাধ্যমে যাদের ডিসি ও এসপি বানানো হয়েছে, তাদের একটি অংশ ইতোমধ্যে একটি দলের পক্ষে তোষামোদ শুরু করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো দলের দালালি করলে বেনজির কিংবা হারুনদের মতো পরিণতি ভোগ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এখনো হাদী হত্যাকাণ্ডের বিচারের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই—এটি একটি অশনি সংকেত। প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ আচরণে ব্যর্থ হয়, তবে আবারও তরুণ প্রজন্মের মুখোমুখি হতে হবে—এমন হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেন তিনি।
সমাবেশটি সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির ফেনী জেলা আহ্বায়ক মাস্টার আহসানুল্লাহ। এনসিপি ফেনী জেলা সদস্য সচিব শাহ ওয়ালী উল্যাহ মানিক এবং এবি পার্টির সদস্য সচিব ফজলুল হক যৌথভাবে সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের শীর্ষ নেতা ও এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভুইয়া এবং এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার জোবায়ের আহমদ ভুঁইয়া।
এ ছাড়া কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়ক মিয়া তৌফিক, এনসিপি ফেনী জেলা আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকত, এবি পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম বাদলসহ গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সমাবেশে অংশ নেন।