শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বড় ভাই ওমর বিন হাদি অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি ও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, আপনারাই ওসমান হাদিকে হত্যা করিয়েছেন, আবার সেই হত্যাকাণ্ডকে ইস্যু বানিয়ে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছেন। এই চক্রান্ত কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত শহীদি শপথ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওমর বিন হাদি এসব কথা বলেন।
সরকারের উদ্দেশে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আপনারা যদি মনে করেন নির্বাচন শেষে রাষ্ট্রক্ষমতা ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যাবেন, তাহলে ভুল করছেন। এই দেশের জনগণ আপনাদের একদিন না একদিন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবেই।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দ্রুত খুনিদের জাতির সামনে হাজির করুন। নির্বাচন যেন বিঘ্নিত না হয়, সেই দায়িত্ব আপনাদেরই। খুনিদের বিচার না করে নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করলে জনগণ তা মেনে নেবে না।
ওমর বিন হাদি বলেন, ওসমান হাদি স্পষ্ট করে বলে গিয়েছিল—ফেব্রুয়ারিতে দেশে নির্বাচন হতেই হবে। সে সেই নির্বাচন নিশ্চিত করতেই মাঠে নেমেছিল। কিন্তু তাকে হত্যা করে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার পথ তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের একটাই দাবি—ওসমান হাদির হত্যার সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে প্রকাশ্যে আনতে হবে। জুলাই বিপ্লবের আগে যারা নিজেদের রাষ্ট্রের মালিক মনে করতো, তারা আজ এই দেশে নেই। তারা পালাতে বাধ্য হয়েছে। হাদির হত্যার বিচার না হলে আপনারাও একদিন পালাতে বাধ্য হবেন।
সরকারের দিকে আঙুল তুলে ওমর বিন হাদি বলেন, যে এজেন্সির হয়ে, যে রাষ্ট্রের হয়ে আপনারা ওসমান হাদিকে হত্যা করেছেন—মনে রাখবেন, হাদি কখনো কোনো রাষ্ট্র, এজেন্সি কিংবা তাঁবেদারের কাছে মাথানত করেনি। মাথানত করলে সে অন্য অনেক নেতার মতো বিক্রি হয়ে নিরাপদ জীবন বেছে নিতে পারতো। কিন্তু সে তা করেনি।
তিনি বলেন, ওসমান হাদি বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষকে শিখিয়ে গেছে কীভাবে রাজপথে দাঁড়িয়ে লড়াই করতে হয়, কীভাবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হয়। এজেন্সির রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেই সে জনতার নেতা হয়ে উঠেছিল। তিনি প্রমাণ করে গেছে—জীবিত ওসমান হাদির চেয়ে শহীদ ওসমান হাদি আজ আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে শেষ হুঁশিয়ারিতে ওমর বিন হাদি বলেন, বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ হাদি হত্যার বিচারের অপেক্ষায়। আপনাদের শাসনামলেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। আজ হোক কিংবা দশ বছর পরে—বিচারের কাঠগড়ায় আপনাদের দাঁড়াতেই হবে।