টানা ১৭ বছরের নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে চট্টগ্রামজুড়ে তৈরি হয়েছে প্রবল রাজনৈতিক উদ্দীপনা। মহানগর থেকে শুরু করে প্রতিটি উপজেলা ও প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত মিছিল, সমাবেশ আর আলোচনা সভায় মুখরিত হয়ে উঠেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। দলীয় কার্যালয়, কমিউনিটি সেন্টার ও ক্লাবগুলোতে চলছে সভা-সেমিনার ও সাংগঠনিক কর্মসূচি—সব আলোচনার কেন্দ্রে একটাই নাম, তারেক রহমান।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজিমুর রহমান জানান, মহানগর বিএনপির উদ্যোগেই অন্তত ১০ হাজার নেতাকর্মীর ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে জেলার প্রতিটি সংসদীয় আসন থেকে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে আরও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ঢাকায় যাবেন। সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম থেকে কমপক্ষে ৫০ হাজার নেতাকর্মীর রাজধানীমুখী যাত্রা হবে বলে তিনি জানান।
চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি বলেন, লাখো মানুষের ঢল নামলে কে কত হাজার লোক নিয়ে গেল—এই হিসাব করার সুযোগই থাকবে না। তারেক রহমানকে এক নজর দেখার আকাঙ্ক্ষা শুধু বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঢাকায় যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছে। দলীয়ভাবে গেলে নেতাকে কাছ থেকে দেখা যাবে—এই আশায় মানুষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলেও জানান তিনি।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের আপামর মানুষ আজ তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায়। এটি কোনো শো-ডাউন বা আধিপত্য প্রদর্শনের আয়োজন নয়; বরং ভালোবাসা আর প্রত্যাশা থেকে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজধানীতে যাবে। তিনি বলেন, এই প্রত্যাবর্তন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে যে উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে, তা আগামী নির্বাচন পর্যন্ত ধরে রাখতে হবে। এই উদ্দীপনার শক্তিতেই বিএনপি আগামী নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চায়।
চট্টগ্রাম বিএনপির নেতারা বলছেন, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন শুধু একজন নেতার দেশে ফেরা নয়—এটি দেশের রাজনীতিতে নতুন গতি, নতুন প্রত্যাশা এবং গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা।