দীর্ঘ ১৭ বছর তিন মাস ১৪ দিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত দেশবাসী, আর রাজধানীর পূর্বাচলে তৈরি হয়েছে বর্ণাঢ্য গণসংবর্ধনার বিশাল মঞ্চ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় নান্দনিক সভামঞ্চ নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থল দেখতে ভিড় করছেন। চোখেমুখে উচ্ছ্বাস, কণ্ঠে প্রত্যাশা—নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আগমন উপলক্ষে গণসংবর্ধনার ভেন্যুটি গত এক সপ্তাহ ধরে দফায় দফায় পরিদর্শন করেন দলের শীর্ষ নেতারা। মঙ্গলবার সকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ মঞ্চ পরিদর্শন করে জানান, এই গণসংবর্ধনায় প্রায় অর্ধকোটি নেতাকর্মী ও সমর্থকের সমাগম হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাহউদ্দিন আহমদসহ সিনিয়র নেতারা সমাবেশস্থলের প্রস্তুতি ঘুরে দেখেন। ২৫ ডিসেম্বরের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন সফল করতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকসহ ঢাকা-১৮ আসনের সব থানা ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এটি হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বর্ণাঢ্য ও কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাবর্তন—ইনশাআল্লাহ।
দলীয় সূত্র জানায়, প্রায় ৫০ লাখ মানুষের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ নিরাপত্তা বলয়, একাধিক স্তরের পুলিশ প্রটেকশন এবং গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। ডিএমপি জানিয়েছে, বিমানবন্দর থেকেই নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হবে; থাকবে সোয়াট টিম, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা।
প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে একাধিক বৈঠকে নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তারেক রহমানের চলাচল রুট, বাসভবন ও দলীয় কার্যালয় ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলয় থাকবে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ডাইভারশনসহ বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপির পক্ষ থেকেও পৃথক নিরাপত্তা টিম কাজ করবে।
নেতাকর্মীদের ভাষায়, দীর্ঘ নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রিয় নেতার ফিরে আসা তাদের কাছে ঈদের আনন্দের মতো। তরুণ প্রজন্ম বলছে, এতদিন পর নেতা তারেক রহমানকে স্বচক্ষে দেখার সুযোগ—এই উচ্ছ্বাস ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে আগাম প্রস্তুতি ও সমন্বিত নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাবে। বিএনপি নেতারা বলছেন, এই গণসমাবেশের মাধ্যমে দেশ ও জাতিকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হবে—দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা রুখতে কোনো ষড়যন্ত্রই আর দাঁড়াতে পারবে না।