জুলাই–আগস্ট গণআন্দোলনে সম্মুখসারিতে থাকা নেতাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গানম্যান ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ কয়েকজন নেতাকে ইতোমধ্যে নিরাপত্তারক্ষী দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা পাওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা।
পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সময় এসব নেতারা সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকায় তাদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঝুঁকি মূল্যায়ন করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের জন্য গানম্যান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আত্মরক্ষার প্রয়োজনে ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জন রাজনীতিবিদ গানম্যান বা অস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করেছেন। সংখ্যাটি প্রতিদিনই বাড়ছে। অনেকেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন। রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি প্রায় ২৫ জন সরকারি কর্মকর্তাও অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন।
পুলিশের আইজি বাহারুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, যাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেশি তাদের জন্য অস্ত্রধারী রক্ষী দেওয়া হয়েছে। যারা তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাদের চলাচল ও নিরাপত্তা বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তালিকা তৈরি করে ধাপে ধাপে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।
ডিএমপি ও পুলিশের বিশেষ শাখার পক্ষ থেকেও অস্থায়ীভাবে গানম্যান দেওয়া শুরু হয়েছে। তবে জনবল সংকটের কারণে সবাইকে গানম্যান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ‘পটেনশিয়াল থ্রেট’ রয়েছে—এমন ব্যক্তিদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনে সোচ্চার শহীদ ওসমান হাদির পরিবারকেও বিশেষ নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে। তার এক বোনকে গানম্যান ও অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, অন্য সদস্যদের জন্য থাকবে সার্বক্ষণিক পুলিশি নজরদারি।
সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও সমন্বয় ও সম্প্রসারণ করা হতে পারে।