ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন আধিপত্যবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক আপোষহীন বীর। যারা তাকে হত্যা করেছে, তারা মারাত্মক ভুল করেছে। হাদির জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতিই প্রমাণ করে দিয়েছে—এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তারা নিজেদের ভুল কতটা ভয়াবহ ছিল, তা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছে।
শনিবার রাতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘ঠাকুরগাঁও উন্নয়ন ফোরাম’-এর আয়োজনে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা কামনায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, জুলাই ও আগস্টের যে আদর্শিক ভিত্তির ওপর আজকের বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে একজন হাদিকে হত্যা করে সেই ধারাকে পরিবর্তন করে দেওয়া যাবে—এমন ধারণা করাটাই বোকার স্বর্গে বসবাস করার শামিল।
তিনি বলেন, একজন জুলাই যোদ্ধাকে হত্যা করে দেশের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার পথ রুদ্ধ করা যাবে না। যারা শাহাদাতের তামান্নায় উজ্জীবিত, তাদের মৃত্যুভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যায় না। জুলাইয়ের তরুণ বিপ্লবীরা মৃত্যুকে ভয় পায় না।
সভায় বক্তারা বলেন, শহীদ হাদি সমাজ ও রাষ্ট্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতেন। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি ছিলেন আপোষহীন। আধিপত্যবাদী ও আগ্রাসী শক্তি তার সাহসিকতার কাছে পরাজিত হয়েছে বলেই তাকে হত্যা করেছে। কিন্তু এই হত্যা তাদের ভয় ও ব্যর্থতারই প্রমাণ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঠাকুরগাঁও-২ আসনের এমপি প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিম বলেন, ইতিহাস সাক্ষী—আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলা প্রত্যেককেই একসময় শহীদ হতে হয়েছে। হাদিও সেই ধারারই একজন। তবে বিপ্লবীদের পরাজিত করা যায় না; হাদির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আরও অসংখ্য হাদির আবির্ভাব ঘটবে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এমপি প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, শহীদ ওসমান হাদি কেবল একটি নাম নয়, তিনি একটি ইতিহাস। ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এক সাহসী প্রতীক।
সভা শেষে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির রূহের মাগফিরাত ও শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।