ভয়ের কোনো কারণ নেই এবং নির্ধারিত সময়েই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এমন দৃঢ় আশ্বাস দিয়ে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকামী জনগণকে ভয় দেখিয়ে কেউ সফল হতে পারবে না।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত মহান বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। আলোচনা সভার শুরুতে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আশু আরোগ্য কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
তারেক রহমান বলেন, “১৯৭১ সালে প্রমাণিত হয়েছে, ২০২৪ সালে প্রমাণিত হয়েছে—জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে জনতার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারে না।” তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন হবে এবং জনগণের ভোটের মাধ্যমেই জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
আসন্ন নির্বাচনে নিজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রামে-গঞ্জে, শহরে-বন্দরে, ওয়ার্ডে-মহল্লায় এবং রাজপথে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার নির্বাচনি মিছিলে তিনি জনগণের সঙ্গে থাকবেন।
তারেক রহমান বলেন, আসন্ন নির্বাচন কোনো পরীক্ষামূলক নির্বাচন নয়; এটি বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আশা-আকাঙ্ক্ষা, রাষ্ট্রের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। তিনি জানান, আগামী দশক হবে রূপান্তরের দশক এবং এ লক্ষ্যেই বিএনপি ‘দেশ গড়ার কর্মসূচি’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার ষড়যন্ত্র অতীতেও হয়েছে, এখনো হচ্ছে। তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, এই হামলা নির্বাচন বানচাল ও গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্রের অংশ। তিনি প্রশ্ন তোলেন—নির্বাচন না হলে কারা লাভবান হবে—এই প্রশ্নের উত্তরেই ঘাতকদের পরিচয় লুকিয়ে আছে।
সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।