সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পৃষ্ঠপোষকেরা অর্থ, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মানুষ দাঁড় করাচ্ছেন—এমন অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ইনকিলাব মঞ্চ আয়োজিত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে আয়োজিত সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, শেখ হাসিনা ও তার মদদদাতারা ক্ষমতা, গদি ও মন্ত্রণালয়ের লোভে দিল্লিকে ‘কেবলা’ বানিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা তৃতীয়বারের মতো বিক্রি করে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি বলেন, যারা দেশে অস্থিরতা তৈরি করছে, নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে, ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টায় জড়িত এবং সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিপীড়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত—তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে ভারত।
ভারতের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, ভোটাধিকার ও মানবাধিকারকে বিশ্বাস করে না এবং যাদের আপনারা আশ্রয় দিচ্ছেন, তাদের বিপরীতে বাংলাদেশও ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় দিয়ে সেভেন সিস্টার্সকে ভারত থেকে আলাদা করার পথে হাঁটতে বাধ্য হবে। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করলে তার জবাব দেওয়া হবে এবং সেই বিদ্রোহের আগুন সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন মেরুদণ্ডহীন। একজন নির্বাচন কমিশনার ওসমান হাদির মৃত্যুকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, হাদি চলে গেলে আর কোনো হাদিকে ফিরিয়ে আনা যাবে না, কিন্তু যোগ্য নির্বাচন কমিশনারের অভাব হবে না।
বিশ্ববিদ্যালয় ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনও আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষক ও শিল্পীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সক্রিয় রয়েছে। টকশো, নাটক ও সিনেমার মাধ্যমে হত্যাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এসব জায়গা থেকে আওয়ামী ও মুজিবপন্থি ব্যক্তিদের অপসারণের দাবি জানান তিনি।
জাতীয় ঐক্য প্রসঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, মঞ্চে এক কথা বলে গোপনে সমঝোতার মাধ্যমে ‘মেকিং ঐক্য’ দিয়ে প্রকৃত জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠে না। সত্যিকারের জাতীয় ঐক্যের জন্য ফ্যাসিবাদবিরোধী স্পষ্ট অবস্থান প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।