জুলাই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান না হলে আজ যারা নির্বাচন নিয়ে কথা বলছেন কিংবা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের মুখে ‘নির্বাচন’ শব্দটাই উচ্চারিত হতো না—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াত আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপসের ইতিহাস জামায়াতে ইসলামীর নেই। দলটির নেতারা বারবার চাপ, ষড়যন্ত্র ও প্রলোভনের মুখে পড়লেও কোনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। তিনি বলেন, “আমাদের নেতারা হাসতে হাসতে জীবন দিয়েছেন, কিন্তু আপসকে ঘৃণা করে প্রত্যাখ্যান করেছেন।”
একাত্তরের পাশাপাশি চব্বিশকেও সমান মর্যাদায় সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “২৪ শুধু ইতিহাসের অংশ নয়, এটি এখন আমাদের কলিজার অংশ। ২৪ না হলে আজ নির্বাচন কমিশন থাকত না, অন্তর্বর্তী সরকারও থাকত না, এমনকি নির্যাতিত মানুষের বিচার চাওয়ার পরিবেশও তৈরি হতো না।”
তিনি বলেন, অতীতে পড়ে থাকা কোনো গতিশীল জাতির পরিচয় হতে পারে না। জামায়াত বিভক্ত নয়, একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি দেখতে চায়। দেশের ওপর বাইরের কোনো দাদাগিরি বা খবরদারি বরদাস্ত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
গত ৫৪ বছরে দেশের ভাগ্য ‘চোরাবালিতে’ হারিয়ে গেছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, জাতি এখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুবিচারভিত্তিক একটি নতুন বাংলাদেশ দেখতে চায়। তিনি বলেন, “বিভক্তি নয় ঐক্য, হিংসা নয় ভালোবাসা, দুর্নীতি নয় স্বচ্ছতা—এই লক্ষ্য নিয়েই আমরা সামনে এগোতে চাই।”
রাজনৈতিক দলগুলোকে জাতির আমানত উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জাতির স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের উদ্দেশে খণ্ডিত বক্তব্য প্রচার না করে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল। এছাড়া কেন্দ্রীয় নেতারাও সভায় বক্তব্য দেন।