জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানো আসামিকে যেখানেই থাকুক, আইনের আওতায় আনতেই হবে—এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ বক্তব্য দেন। জুমা বলেন, “খুনি যদি জাহান্নামে থাকে, জাহান্নাম থেকেও এনে আগে আমাদের সামনে দাঁড় করাতে হবে। এরপর সে আবার জাহান্নামে যাবে।” তার এই বক্তব্যে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, ওসমান হাদির ওপর হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক আক্রমণ। তিনি বলেন, “আমাদের ভাইয়ের ওপর গুলি চালিয়ে যারা ভেবেছে আন্দোলনের স্পিরিট ভেঙে দেবে, তারা ভুল করেছে।”
হাদির শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে জুমা বলেন, “আমাদের দোয়া থাকবে, ভাই সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন। আর যদি আল্লাহ না করুন, তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে না-ও আসেন, তাহলেও আমরা আমাদের সংগ্রাম থেকে একচুল পরিমাণ বিচ্যুত হব না।”
তিনি আরও বলেন, এই লড়াই শুধু একজন ব্যক্তির জন্য নয়, এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই। “ভারতীয় আধিপত্যবাদ, বাংলাদেশে যে কোনো আধিপত্যবাদ, ফ্যাসিবাদ এবং আওয়ামী রাজনীতির বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম চলবে—ইনশাআল্লাহ,” বলেন জুমা।
ব্রিফিংয়ে তিনি সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। হামলার পরও অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার না হওয়াকে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দোষীদের বিচারের আওতায় না আনা হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।
এ সময় শহীদ মিনারে উপস্থিত নেতাকর্মীরা ‘আমরা সবাই হাদি’, ‘খুনির বিচার চাই’—এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন। বক্তারা দাবি করেন, ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে রাজপথে আরও বড় আন্দোলনের দিকে যাবে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো।