ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো হাজার হাজার কোটি টাকার বেতন ও সুযোগ–সুবিধা নেবে, গাড়ি–বাড়ি ভোগ করবে, অথচ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের জীবনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হবে—তাদের এখানে চাকরি করার কোনো অধিকার নেই।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিনই পরিকল্পিতভাবে হাদির ওপর গুলি চালানো হয়েছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করে দেশে অরাজক ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।
প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, হাদির ওপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলাকারী ও তাদের গডফাদারদের চিহ্নিত করতে না পারলে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই থেকে যাবে। এ জন্য অবিলম্বে হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে হবে।
গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ শ্রেণির সাংবাদিক, সুশীল ও বুদ্ধিজীবী টকশো ও লেখালেখিতে এমন ন্যারেটিভ তৈরি করছেন—আওয়ামী লীগ ছাড়া নাকি নির্বাচন সম্ভব নয়। ইনক্লুসিভ বা রিফাইন্ড ইলেকশনের নামে তারা নির্বাচনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। ঠিক সেই সময়েই হাদির ওপর হামলা হয়েছে।
তিনি বলেন, ওসমান হাদির মতো জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধারাই ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক। এ কারণেই তাদের টার্গেট করা হচ্ছে। আগামী নির্বাচনের আগে এসব জুলাই যোদ্ধাকে দমন করতে না পারলে ইসলামপন্থি ও ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী শক্তির বিজয় ঠেকানো যাবে না—এই আশঙ্কা থেকেই হামলার ঘটনা ঘটছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, মোবারক হোসাইন এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা।