শহিদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেছেন, বুদ্ধিজীবীরাই সব সময় জাতিকে পথ দেখিয়েছেন। শহিদ বুদ্ধিজীবীরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, যাদের স্বপ্ন ছিল—বুদ্ধিজীবীরাই জাতিকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেবেন। তবে তিনি অভিযোগ করেন, দুঃখজনকভাবে একটি অংশের বুদ্ধিজীবী ফ্যাসিবাদের স্বার্থে কাজ করেছেন।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে সকালে মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন সাদিক কায়েম।
তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রশ্নে তারা সব সময় আপসহীন। নিজের রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি ছাত্র শিবিরের দায়িত্বে আছি। কিন্তু বাংলাদেশের প্রশ্নে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট।” সাদিক কায়েম আরও বলেন, “বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হলে বাংলাদেশপন্থি হয়েই করতে হবে। দিল্লির দাসত্ব থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি করতে হবে।”
মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ভূখণ্ড হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তবে তার মতে, সেই স্বাধীনতার ধারাবাহিক লড়াই এখানেই শেষ হয়নি। তিনি বলেন, “২৪-এর মাধ্যমে আমরা দিল্লির আজাদী থেকে মুক্তি পেয়েছি।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করেন।
সাদিক কায়েম বলেন, শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস শুধু শোকের দিন নয়, এটি আত্মসমালোচনারও দিন। যারা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে জাতির পক্ষে না দাঁড়িয়ে ক্ষমতাসীন ফ্যাসিবাদের স্বার্থ রক্ষা করেছে, তাদের ভূমিকা নতুন প্রজন্মের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে সকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে শহিদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ ও রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর সর্বস্তরের মানুষের জন্য স্মৃতিসৌধ দুটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রশ্নে আমরা সবসময় আপসহীন, বাংলাদেশপন্থিরাই বাংলাদেশে রাজনীতি করবে : সাদিক কায়েম