সন্ত্রাসীর গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদি। বর্তমানে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এমন অবস্থার মধ্যেই হাদিকে হত্যাচেষ্টায় জড়িতদের সহযোগীরা হাসপাতাল পর্যন্ত চলে এসেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই দাবি করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের কর্মী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য ফাতিমা তাসনিম জুমা। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এই অভিযোগ তুলে ধরেন।
জুমা বলেন, ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, যা নিয়ে তিনি গভীর সন্দেহ প্রকাশ করছেন। তার ভাষ্য, “যে আসামি একবার গ্রেপ্তার হয়েছে, তার সব তথ্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আছে। তারপরও তাকে চিহ্নিত বা আটক করতে না পারা আমাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িত আসামি এখনো দেশ ছাড়েনি বলেই তারা মনে করেন। জুমার দাবি, “আসামি পালিয়ে গেছে—এমন একটা ধারণা তৈরি করে দায়মুক্তি নেওয়ার চেষ্টা চলছে, অথবা তাকে পালাতে সহযোগিতা করার কোনো পরিকল্পনা থাকতে পারে।”
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ হিসেবে তিনি জানান, হাদিকে হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জড়িত চক্রের সহযোগীরা হাসপাতাল পর্যন্ত চলে এসেছিল। জুমা বলেন, “এই পরিকল্পনা একজন করেনি, একজন বাস্তবায়নও করেনি। এটি একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের কাজ। এই সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং খুনিদের সহযোগীরা হাসপাতাল পর্যন্ত এসেছিল—এমন তথ্য আমাদের কাছে আছে।”
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, শুধু হাদি নন, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেই এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
শেষে ফাতিমা তাসনিম জুমা ওসমান হাদিসহ সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান। তিনি বলেন, “আমরা পুরো সিন্ডিকেটকে জীবিত গ্রেপ্তার হতে দেখতে চাই। ওসমান ভাইয়ের নিরাপত্তাসহ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা অনেক কষ্ট করে ধৈর্য ধরে আছি, কিন্তু সেটা বেশিক্ষণ সম্ভব হবে না।”
এই অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।