দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছরের নির্বাসনের পর ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে তার বাসভবন ও কার্যালয়ের সংস্কার কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। তার সঙ্গে একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানেরও ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
তারেক রহমানের দেশে ফেরার খবরে উচ্ছ্বসিত ও উজ্জীবিত দলের নেতা-কর্মীরা। তারা বলছেন, এ আগমন শুধু দলের নেতা-কর্মীর জন্য নয়, সমগ্র জাতির জন্য আনন্দ ও আশার বার্তা বয়ে আনছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গুলশান-২ এভিনিউ রোডের ১৯৬ নম্বর বাড়ির দেয়াল নতুন করে সাদা রঙ করা হয়েছে, চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদারে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বক্স স্থাপনের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। পুরোনো ছোট গেটের পরিবর্তে বড় গেট বসানো হয়েছে। ভেতরে কিছু সংস্কারকাজ এখনো চলমান রয়েছে। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে তার ভবিষ্যৎ আবাসস্থল ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, গুলশান এভেনিউের ১৯৬ নম্বর বাড়ি প্রায় প্রস্তুত। কোনো কারণে পুরোপুরি প্রস্তুত না হলে পাশেই মায়ের ভাড়া বাসা ফিরোজায় উঠবেন তারেক রহমান।
তিনি আরও জানান, দেশে ফিরে তারেক রহমান বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয় থেকেই দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। গুলশানের ৮৬ নম্বর রোডে অবস্থিত ওই কার্যালয়ে নিরাপত্তা জোরদারসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান ঢাকায় ফেরা উপলক্ষে কোটি মানুষের উপস্থিতির সম্ভাবনা দেখছেন আতিকুর রহমান রুমন। তিনি জানান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ইতোমধ্যে ঢাকায় আছেন। তাদের একমাত্র কন্যা সন্তান ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও বাবার সঙ্গে দেশে ফিরতে পারেন।
এদিকে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে সরকার।
সূত্র বলছে, লন্ডন সময় ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশে বিমানের ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন তারেক রহমান। বাংলাদেশ সময় ২৫ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকার মাটিতে পা রাখতে পারেন ১৭ বছর নির্বাসিত থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎিসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান তারেক রহমান। এরপর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে দেশে ফেরা হয়নি বিএনপির এই শীর্ষ নেতার।