ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবিদ্ধ হামলার ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগে উত্তাল হয়ে ওঠে প্রতিবাদী কণ্ঠ। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা হাদিকে ঘিরে আবেগ, ক্ষোভ ও প্রতিরোধের ভাষায় কথা বলেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “গেল ৫৪ বছরে বাংলাদেশ একটা ওসমান হাদিকেই উপহার দিতে পেরেছে। আপনি চাইলেও, আমি চাইলেও ওসমান হাদি হতে পারব না।” তিনি বলেন, “৮০ বছর ধরে জীবন্ত লাশ হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে ওসমান হাদির মতো দুই মিনিট জীবন নিয়ে বেঁচে থাকাও বেশি সম্মানের।”
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, “গুলিটা হাদির মাথা ফুটো করে যায়নি, ফুটো করে গেছে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের বিবেক।”
ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা সমাবেশে আরও কঠোর ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের চোখের অশ্রু দেখছেন, কিন্তু ভেতরে যে বারুদ—সেটা এখনও দেখেননি। সেটা দেখার সাহস যেন কেউ না করে।” রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পর কেউ কালচারাল ফ্যাসিবাদকে মোকাবিলা করেনি। একজন মানুষই সেটা পেরেছিল—আর তারই প্রতিদান আজ আমার ভাইকে দিতে হচ্ছে।”
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আমাদের দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, “হাদি ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায় একটি কালচারাল সেন্টার গড়ে তুলেছিল। দেশের নানা প্রান্ত থেকে বই সংগ্রহ করতো সেই কেন্দ্রের জন্য।” হাদি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত সেই কালচারাল সেন্টারের দায়িত্ব নিজে নেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।
সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। তারা বলেন, এই হামলা শুধু একজন মানুষের ওপর নয়, এটি একটি প্রতিরোধী রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চেতনার ওপর আঘাত।