ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন তার সহকর্মীরা। তাদের দাবি, হামলায় জড়িত দুর্বৃত্তরা আগে থেকেই হাদিকে অনুসরণ করছিল এবং নির্বাচনী প্রচারণায় লিফলেট বিতরণসহ সরাসরি অংশও নিয়েছিল।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বিজয়নগর বক্স কালভার্ট রোডের ডিয়ার টাওয়ারের সামনে এসব তথ্য জানান ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য মো. সাফিউর রহমান।
তিনি বলেন, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে সেগুনবাগিচায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ের সামনে হাদি ভাইয়ের ক্যাম্পেইন ছিল। দলের সবাই সেখানে উপস্থিত হন। ওই সময় দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিও ক্যাম্পেইনে ছিল।
তারা এর আগেও আমাদের সঙ্গে একাধিক ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়েছে এবং লিফলেট বিতরণ করেছে। সব সময় তারা মাস্ক পরে থাকত এবং কখনো মুখ খোলেনি। পিআর টিম ছবি তুলতে চাইলে তারা বলে—‘মাস্ক খোলা যাবে না, ঝামেলা আছে।’ আমাদের কাছে সেই ছবিগুলো সংরক্ষিত আছে।
সাফিউর রহমান জানান, ক্যাম্পেইন শেষে হাদি ভাইসহ মোট নয়জন তিনটি রিকশায় করে রওনা হন। প্রথম রিকশায় ছিলেন হাদি ভাই ও আরও দুজন। খলিল হোটেলের সামনে একটি মসজিদে তারা নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে মসজিদের মুয়াজ্জিনও তাদের সঙ্গে রিকশায় ওঠেন। এরপর হাইকোর্ট এলাকায় খাবার খেয়ে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে যাওয়ার কথা ছিল, যেখানে রাতে একটি কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল।
তিনি আরও বলেন, হাদি ভাই নামাজে থাকাকালে ওই দুই ব্যক্তি মসজিদের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল। নামাজ শেষে রিকশাগুলো হাইকোর্টের দিকে যাত্রা শুরু করলে মোটরসাইকেলে করে তারা রিকশার পেছনে আসে। কিছু দূর যাওয়ার পর হঠাৎ একজন পকেট থেকে পিস্তল বের করে গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ইনকিলাব মঞ্চের এ নেতা বলেন, “ওরা আমাদের সঙ্গে কয়েকদিন ধরে ছিল, প্রোগ্রামেও এসেছে, লিফলেটও বিলিয়েছে। পরিচিত মুখ হয়ে উঠলেও কখনো মুখ দেখায়নি—সব সময় মাস্ক পরে থাকত।”
উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর কালভার্ট এলাকায় অস্ত্রধারীদের গুলিতে আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। গুরুতর অবস্থায় তাকে বিকেল পৌনে ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের তথ্যমতে, তার বাম কানের পাশে এক রাউন্ড গুলি লেগেছে এবং তিনি এখনো চিকিৎসাধীন।