ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা আট আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে অমানবিক ও নৃশংস আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। এই হামলাকে সুদূরপ্রসারী অশুভ ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে দলটি বলেছে, এটি পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনী পরিবেশ বানচাল করার লক্ষ্যে সন্ত্রাসী তৎপরতা বিস্তারের নীলনকশা।
শুক্রবার বিকেলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের একটি কুচক্রী মহল এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। সমাজে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে হিংস্র শক্তিগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য তারা পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা ছড়িয়ে দিতে চাচ্ছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, দুই হাজার চব্বিশ সালের জুলাই আগস্টে ছাত্র জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে গণতান্ত্রিক বিজয়ের যাত্রা শুরু হয়েছে, সেটিকে বাধাগ্রস্ত করতেই এই চক্র দেশকে নৈরাজ্যের অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা সেই অপতৎপরতারই নির্মম বহিঃপ্রকাশ। গণতন্ত্রের পথচলা রুদ্ধ করা এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভণ্ডুল করাই এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য।
বিএনপি আরও বলেছে, নাশকতাকারীদের এই অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতার বিষয়ে জনগণকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য যারা ওত পেতে আছে, তাদের বিরুদ্ধে দল মত নির্বিশেষে সব শ্রেণি পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অন্যথায় সন্ত্রাসীরা মাথাচাড়া দিয়ে দেশের অস্তিত্বকেই বিপন্ন করার চেষ্টা করবে। এ অবস্থায় নাশকতাকারী সন্ত্রাসীদের কঠোর হাতে দমন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
বিবৃতিতে হামলার সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে গুরুতর আহত শরিফ ওসমান হাদির আশু সুস্থতা কামনা করেছে বিএনপি। উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হয়ে তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।