ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার ঠিক আগ মুহূর্তে বিএনপি আবারও জানাল—দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুব শিগগিরই দেশে ফিরছেন। তবে তার প্রত্যাবর্তনের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার সকালে ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তব্য দিতে গিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমাদের নেতা খুব শিগগিরই আমাদের মাঝে আসবেন।
”উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তারেক রহমান যেদিন আমাদের কাছে আসবেন, যেদিন বাংলাদেশে পা দেবেন—সেদিন যেন সমগ্র বাংলাদেশ কেঁপে ওঠে। এই কথাটা মনে রাখতে হবে। সেইদিন আমরা গোটা বাংলাদেশের চেহারা বদলে দিতে চাই।”
দেড় যুগ ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করা তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে বিএনপির ভেতরে এবং বাইরে আলোচনা দীর্ঘদিন ধরেই চলমান। নভেম্বরে তিনি দেশে ফিরবেন বলে দলের বিভিন্ন নেতারা ইঙ্গিত দিলেও, ২৯ নভেম্বর তারেক নিজেই ফেসবুকে লিখেছিলেন—দেশে ফেরা শুধু তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে নির্ধারিত নয়। তার মন্তব্যের পর সরকার জানায়, তার দেশে ফেরায় কোনো বাধা নেই।
তারেকের মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় তারেকের প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনাও আরও গতি পায়।
কর্মশালায় মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি দেশের মর্যাদা পুনরুদ্ধারে এবং অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে চায়। দলের নীতি, পরিকল্পনা ও নেতৃত্বের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা সামনের দিকে এগোতে চাই। আমাদের নেতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করতে চাই।”
তফসিল ঘোষণার দিনই বিএনপির মহাসচিবের এমন বক্তব্য নতুন রাজনৈতিক উষ্ণতা তৈরি করেছে। দলের নেতাকর্মীদের কাছে এখন প্রধান প্রশ্ন—তারেক রহমান ঠিক কোন মুহূর্তে ‘দেশে পা রেখে’ সেই প্রতীক্ষিত রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি করবেন।