রাজনৈতিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এবং নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশাই জামায়াতের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ড. গালিব বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের অন্যতম দায়িত্ব হলো জনগণের কাছে যাওয়া এবং তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা। “নিজেদের দাবি জানাতে যেন জনগণকে সব সময় ক্ষমতার কাছে ছুটতে না হয়; বরং ক্ষমতাই যেন মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে দাঁড়ায়”—এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
তার মতে, জনগণের ইশতেহার তৈরির যে উদ্যোগ জামায়াত নিয়েছে, তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। গালিব বলেন, “জামায়াত জনগণের মতামতের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত ইশতেহার তৈরি করছে, যেখানে মানুষের বাস্তব চাহিদা, সমস্যার অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উঠে আসবে। শুধু তাই নয়, ইশতেহারে করা প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন পরবর্তীতে কতটা অগ্রসর হচ্ছে—তার একটি ফলোআপ সিস্টেমও থাকবে। এটি নিঃসন্দেহে একটি অসাধারণ উদ্যোগ।”
জুলাইয়ের পর জামায়াতের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, মূল কারণ হলো পরিবর্তনের প্রতি মানুষের অদম্য আকাঙ্ক্ষা। “জামায়াতের উচিত অন্য দলগুলোকে ছোট না করে, বরং নিজেদের ইতিবাচক পরিকল্পনা, ভবিষ্যৎ করণীয় এবং রাষ্ট্র পরিচালনার সুনির্দিষ্ট নকশা জনগণের সামনে তুলে ধরা।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মানুষ ক্রমেই বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী নেতৃত্ব সততা, যোগ্যতা এবং দক্ষতার সঙ্গে জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে। তার মতে, যদি এই ইতিবাচক রাজনৈতিক ধারা অব্যাহত থাকে, তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে মৌলিক পরিবর্তন ঘটতে পারে।